• যেভাবে মূল্যবান সময়কে কাজে লাগাবেন

  • এম রহমান আরিফ

     

    সময় মানুষের জীবনকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। যিনি সময়ের ব্যাপারে সচেতন তার সাফল্য অনিবার্য। দায়িত্বশীল ব্যক্তি সময়ের সদ্ব্যবহার করে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে যোগ্যতা প্রমান করে। অনেক যোগ্য ব্যক্তি সময়ের অবহেলা করে নিজেকে অযোগ্য ব্যক্তির কাতারে শামিল করে। সফল ব্যক্তিরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিশ্রম করে না বরং সঠিক সময়ে সঠিক কাজ সম্পন্ন করে। বস্তুত সময়ের সদ্ব্যবহার জানেনা বলেই মানুষ কাজের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। সময়ের সদ্ব্যবহারের জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির স্ব স্ব কৌশল অবলম্বন করা উচিত। আমরা যতটা সঠিক উপায়ে সময়কে কাজে লাগাতে পারব ততটা সফল হব। নিম্নের আলোচনার মাধ্যমে আমরা সময়ের সদ্ব্যবহার সম্পর্কে আরো জানতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে নেটওয়ার্কাররা সময়ের প্রতি বেশি সজাগ থাকে কারণ প্রতিটি মুহুর্ত তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
    অভাব বা প্রয়োজন সৃষ্টি করুনঃ  সময়ের অভাব বা চাহিদা সৃষ্টি করুন। অর্থাৎ প্রথমে একটি ভাল কাজ খুঁজে বের করুন। কাজটিকে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করুন যেন যে কোন উপায়ে তা সম্পন্ন করতে হবে, দেখবেন সময় ঠিকই আপনি বের করে নিয়েছেন। কাজকে যতবেশি প্রয়োজনীয় ভাববেন সময় আপনি তত বেশি পাবেন।
    সময় সাশ্রয় করুনঃ  যে কাজ সকাল নয়টা হতে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত করে প্রতিদিন শেষ করেন। তা যদি বিচক্ষনতার সহিত বিকাল তিনটার পূর্বে শেষ করতে পারেন তবে দুঘন্টা সময় সাশ্রয় করলেন। একজন নেটওর্য়াকার অফিসে আসার পূর্বেই পরিকল্পনা সেরে ফেলেন কোন কাজটি আগে করলে সময় সাশ্রয় হবে বা কোন দিকে গেলে দুটি কাজ একত্রে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এতে একটি কাজের সময় সর্ম্পূন সাশ্রয় হবে। নেটওয়ার্কারদের সময় সাশ্রয়ের প্রতি অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে। কারন সময়মতো দল গুছাতে না পারলে এ জন্য অনেক বেশি শ্রম ও সময় প্রদান করতে হয়।
    সময়ের অপচয় রোধ করুনঃ  আমরা সাধারনত কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন কথা-বার্তায় মগ্ন হই। যেমন আপনি কোন কাজ করতে করতে কথা বলবেন তো কাজটি সঠিক বা নিখূঁত হবার সম্ভাবনা কমে যাবে। এতে সময়ের অপচয় হয় বেশি। আলস্যতা ও ধীরে চলার কারনে সময়ের অপব্যবহার হয়ে থাকে। সঠিক কাজ সঠিক সময়ে সম্পাদনের মাধ্যমে আমরা সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারি। যে কোন একটি কাজ আরম্ভ করার পর তা সম্পন্ন করার পর নতুন কাজে হাত দেওয়া উচিত দুটি কাজ একত্রে আরম্ভ করলে কোনটিই না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে সময়ের অপচয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।
    পরিকল্পিত উপায়ে কাজ করুনঃ  পরিকল্পনা মাফিক কাজ করার মাধ্যমে সময়ের সঠিক ব্যবহার হয়। নেটওয়ার্কারদের বিভিন্ন কর্ম পরিকল্পনায় সময়ের গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। একাটি কাজ নিয়ে পুরোদিন ব্যস্ত থাকলে অন্যান্য কাজের সময় পাওয়া বেশ কঠিন। সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেকগুলো কাজ সঠিক সময়ে যথার্থভাবে করা যায়।
    অন্যদের প্রেষিত করুনঃ  আপনি নিজে যতই সময় সচেতন হোন না কেন আপনার সহকর্মী বা ডাউন-লাইন, আপ-লাইন কর্মীরা এ ব্যাপারে উদাসীন হলে তা আপনার উপর প্রভাব ফেলবে। যারা সময়ের মূল্যায়ন করে না তারা আপনার সময়ের বা কাজের মূল্যায়ন করবে না। যা আপনার কর্মদ্যোম এ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এজন্য কাজের গুরুত্ব ও সময়ের প্রতি মনোযোগী হওয়ার জন্য অন্যদের উৎসাহ দিন। আপনার চারপাশের লোকজনের কর্মস্পৃহা দেখে আপনার নিজের মাঝেও উদ্দীপনা তৈরী হবে।
    অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিনঃ  অপ্রয়োজনীয় ও অনাহুত কাজ বাদ দিন। কাজের প্রতি একাগ্রতা না থাকলে বিভিন্ন ইচ্ছা জাগ্‌তে শুরু করবে যেমন, চা-সিগারেট পান করা ইত্যাদি। মোদ্দা কথা কাজ ও সময়ের প্রতি যাদের সচেতনতা নেই তারা বিশেষ করে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতিতে সফল হতে পারে না বরং অন্যদের ক্ষতিসাধন করে। মূল্যবান সময়কে কে কতটা কাজে লাগাতে পারে তা নির্ভর করে তার মনোভাবের উপর। নেটওর্য়াকার মার্কেটিং এ ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন মানুষ কখনো অন্যদের কাজে ব্যাঘাত ঘটায় না। সহযোগিতা পূর্ন মনোভাবের দরুন মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতিতে প্রত্যেকে সময়ের চেয়ে দ্রুত সাফল্য লাভ করতে সক্ষম হয়। এজন্য সময়ের সদ্ব্যবহার জানতে হবে প্রত্যেককে।
  • একজন সফল নেটওয়ার্ক মার্কেটিং লিডারের গুণাবলী

  • এম রহমান আরিফ

     

    নেতৃত্ব এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে লোকজনকে উদ্ধুদ্ধ করা যায়। লক্ষ্য অর্জনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করা, কাজের প্রতি অনুপ্রেরণা, প্রেষণাদান, ডিস্ট্রিবিউটরদের দায়িত্ব গ্রহনের সম্মতিও পালনের অঙ্গীকার কারার মাধ্যমে একজন নেতা নিজেকে সফল ভাবতে পারে। একজন নেতা তার ডাউন লাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে অনুকরনীয় হয়ে থাকে তার কাজের মাধ্যমে। প্রত্যেক নেতারা নিজস্ব কিছু গুণাবলী বা বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত যার কিছু নিম্নে তুলে ধরা হলো।
    সৃষ্টিশীল চিন্তা- চেতনাঃ  সৃষ্টিশীল চিন্তা- চেতনা একজন নেতার অন্যতম গুন। মেধা ও মননের ছোট-বড় কাজগুলোকে সফলতার সহিত সমাধান করার মাধ্যমে সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দেন। সাধারণত বিভিন্ন কৌশল শেখানো ও সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করা, দলীয় সিদ্ধান্ত সমূহের বাস্তবায়ন ইত্যাদি ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে নেতা তার অন্যন্য প্রতিভার পরিচয় দেন। এছাড়া স্পন্সর তৈরীর নানা কোৗশল বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল এসব কিছু একজন লিডারের কাছ থেকে ডিস্ট্রিবিউটর বা প্রতিনিধিরা সহজে অর্জন করতে পারে।
    ইতিবাচক মনোভাবঃ  নেটওয়ার্ক মার্কেটিং লিডারদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ইতিবাচক মনোভাব ব্যতীত কখনোই নেটওয়ার্ক মার্কেটিং লিডার হওয়া যায় না। সামান্য নেতিবাচক মনোভাবেন দরুন সম্পূর্ণ দল বা গ্রুপের লক্ষ্য বিনষ্ট হয়। লিডারদের আচরন, কথাবার্তা, প্রশিক্ষন প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ডাউন-লাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের কাজের গতি ও সাফল্যের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। মনে হাজারো সমস্যার প্রশ্ন থাকলেও মুখে এর বর্হি প্রকাশ হতে হবে বিপরীত এমনভাবে হাসতে হবে যেন সামনে অফুরন্ত সম্ভাবনা আর সাফল্যের হাতছানি। লিডারদের দৃঢ় মনোবল ও ইতিবাচক মনোভাবে ডিস্ট্রিবিউটররা শুধু অবাক হবে না বরং অনুকরন করবে প্রতিনিয়ত।
    ধৈর্য্যশীলতাঃ  ধৈর্য্য পরীক্ষায় উত্তির্নরাই নেটওর্য়াকার। সফল নেটওয়ার্কাররাই সফল লিডার হওয়ার পথে অগ্রগামী। একজন ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে সফলতার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় মনোবল ও কঠোর পরিশ্রম। অন্যদিকে লিডার হিসেবে সফলতার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য্যশীলতা। হাজারো প্রতিকুল অবস্থার মধ্যে নিজেকে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করা ও সফলতার শীর্ষে পৌছানোর জন্য নিবিড় প্রচেষ্ঠা ও ধৈর্য্যশীল মানসিকতা একজন লিডারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
    আত্মবিশ্বাসীঃ  আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান মানুষ যে কোন লক্ষ্য অর্জন করতে পারে তা অর্জন করতে পারেসকল বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে। আত্মবিশ্বাসের মূলভিত্তি মানষিক দৃঢ়তা। লিডাররা এতটাই আত্মবিস্বাসী যে তারা মানুষের মনোভাব পরিবর্তন ছাড়াও সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও পাল্টাতে সক্ষম হয়। অতীতের ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য পরিস্থিতিকে দায়ী না করে এর থেকে শিক্ষার্জন করে বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে। লিডারদের আত্মবিশ্বাস এমনই হওয়া চাই।
    সময়জ্ঞানঃ  সময়ের গুরুত্ব ও এর সদ্ব্যবহার সম্পর্কে প্রত্যেকের জানা আছে। তবুও এ সময় জ্ঞান আমাদের অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় একজন লিডার সকাল দশটার সভা আহবান করে সকার দশটায় পনের মিনিটে উপস্থিত হয়ে ট্রাফিক জ্যামের অজুহাত দেয়ার পর তার ডাউন লাইনের কাছে তার গ্রহন যোগ্যতার মাত্রা শুন্যের কোটায় এসে পৌঁছায়। একজন নেতা সময় সম্পর্কে যতটা সচেতন তার ডিস্ট্রিবিউটরগণ ততটাই সচেতন হওয়ার চেষ্টা করে। লিডারদের কার্যক্রম ও প্রতিটি মুহুর্তের গুরুত্ব অনুধাবন করে ডিস্ট্রিবিউটররা স্বাভাবিকভাবে একধাপ এগিয়ে থাকতে চায়। সুতরাং, সময়ের ব্যাপারে কাউকে মুখে না বুঝিয়ে কাজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতে হবে, যে জ্ঞান লিডারদের থাকা খুবই জরুরী।
    প্রেষনা প্রদানঃ  লিডাররা এ প্রেষণামূলক মার্কেটিং পদ্ধতির মূলস্তম্ভ। তাদের আচরণ, মনোভাব, উদ্দীপনা, ধৈর্য্য ও অন্যান্য আকর্ষনীয় মানবিক গুণাবলীর মাধ্যমে। দলীয় নেতাদের কাছ থেকে প্রেষণা লাভ করে ডিস্ট্রিবিউটররা যতটুকু উৎসাহিত হয় অন্য কোন মাধ্যম থেকে প্রেষিত হয়ে ততটা হয়না। কারণ লিডাররা তাদের কাছে দৃষ্টান্ত স্বরূপ। একজন লিডার যতবেশি প্রেষনা দানে সক্ষম তত বেশি সফলতা তার নিশ্চিত। অনার্থিক প্রেষণা আন্তরিকতা ও ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।
    যোগাযোগের দক্ষতাঃ মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতিতে যোগাযোগের গুরুত্ব অপরিসীম। তথ্র-প্রযুক্তির কারণে যোগাযোগের মাধ্যম তখন অনেক বেশি সহজ। এক একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক ডিস্ট্রিবিউটর এক সঙ্গে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানের সাথে দলের বা ব্যক্তির এবং দলের সাথে ব্যক্তির যোগাযোগ যত বেশি সহজ ও সরল ততবেশি মঙ্গল। লিডাররে যোগাযোগ দক্ষতার উপর ডিস্ট্রিবিউটরদের কর্মোদ্যম, অফিসমুখীতা প্রকাশ পায়। একজন লিডার প্রত্যেক প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয় এজন্য লিডারদের এমন প্রক্রিয়া চালু করতে হবে যাতে প্রত্যেকের (ডিস্ট্রিবিউটর) বা দল গ্রুপের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। আর এই প্রক্রিয়া বা অনুশীলনের দীর্ঘস্থানীয়ত্ব নির্ভর করে নেতাদের বিচক্ষনতার উপর।
    দল গঠনের সামর্থ্যঃ  দল গঠন ও এর মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন একজন নেতার অন্যতম গুন। একাধিক ডিস্ট্রিবিউটর নিয়ে যে কেহ দলগঠন করতে পারে কিন্তু একটি সুসংগঠিত ও সুনিয়ন্ত্রিত দল গঠন এবং এর মাধ্যমে সকল অগ্রযাত্রা ততটা সহজ নয়। একজন লিডার ব্যক্তিক শক্তিকে, সৃজনশীলতাকে যখন দলীয় কাজে লাগিয়ে প্রত্যেকের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে তখন দলগঠনের সাফল্য অর্জিত হয়। আবারবড় দল বা গ্রুপকে ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে মূল দলের কাঙ্খিত ফল লাভ সম্ভব হয়।
    সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতাঃ  আমাদের কাছে সিদ্ধান্ত গ্রহনের বিষয়টি যতটা সহজবোধ্য মনে হয় প্রকৃতপক্ষে একজন লিডারের পক্ষে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহন ততটা সহজবোধ্য নয়। ব্যক্তিগত ও দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহন ছাড়াও অন্যকে সিদ্ধান্ত গ্রহনে অনুপ্রাণিত করা বা সহায়তা প্রদান নেতাদের অন্যতম কাজ। সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে সাফল্য যেমন সম্ভাবনাময় তেমনি ঝুঁকি ও বিদ্যমান। সামনে থেকে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহন ক্ষমতা নেতাদের একটি অন্যন্য বৈশিষ্ট্য।
    উপরোক্ত গুণাবলী ছাড়াও নেটওর্য়াকিং লিডাররা আরো অনেক বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলীর অধিকারী হয়ে থাকে। সফল নেতা যেমন একই বৈশিষ্ট্যর অধিকারী নয় তেমনি সফল নেতা একইরকম সাফল্য অর্জন করতে পারে না। নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জনের জন্য- যুগে যুগে যারা সফল নেতৃত্ব প্রদান করে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তাদেরকে অধ্যয়ন আবশ্যক।
  • আপনার প্রথম সেমিনার ও প্রথম কাজ

  • এম রহমান আরিফ

     

    আপনি প্রথমবার কারো না কারো হাত ধরে কিংবা নিজেই কৌতুহলবশত কোন এম.এল.এম কোম্পানীর সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। সেমিনারে আপনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের পণ্য সামগ্রী, কমিশন প্ল্যান, ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং আয়ের উৎস সম্পর্কে বিস্তর ধারণা লাভ করেছেন। কিন্তু পরিসংখ্যানে দেখা যায় শতকরা মাত্র পনের থেকে বিশ ভাগ লোক সেমিনারে বসে কোম্পানী ও কমিশন প্ল্যান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে সক্ষম হয়। সেমিনার চলাকালীন সময় কিংবা সেমিনারের পর আপনার মনে যেসব প্রশ্ন জাগতে পারে তা আপনার আপলাইন বা কাউন্সিলরের কাছ থেকে জেনে লিখে রাখুন। সম্ভাব্য প্রশ্ন সমূহঃ

     

    # এ ব্যবসাটি কি প্রত্যেকের পক্ষে সম্ভব?

    # এ ব্যবসায় প্রতিদিন কত সময় ব্যয় করতে হবে?

    # এ প্রতিষ্ঠান হতে কতদিন আয় করা সম্ভব?

    # সর্বোচ্চ কত টাকা ইনভেষ্ট করতে হবে এ ব্যবসায়?

    # আমি নিয়মিত আসতে পারবনা, তবে কি এ ব্যবসা করা সম্ভব হবে?

    # নতুন অতিথিকে কিভাবে দাওয়াত করব?

    # আমার পরিবর্তে আমার পরিবার এ ব্যবসা করতে পারবে কি?

    # কোম্পানীর লাভ কি এ টাকা বন্টন করে?

    # কতদিন পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অব্যহত থাকবে?

    # নির্দিষ্ট সময়ের পর কাজ করার প্রয়োজন নেই কি?

    # স্পন্সরিং ছাড়া আয়ের উপায় আছে কি?

    # ব্যক্তিগত স্পন্সরিং এর কোন সীমা বদ্ধতা আছে কি?

    # নেটওয়ার্ক মার্কেটিংকে পেশা হিসেবে নেয়ার সুযোগ আছে কি?

    # প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রয় করে আয়ের সুযোগ আছে কি?

    # পণ্যের মূল্য বাজারের সাথে সংগতিপূর্ণ কি?


    আপনার প্রথম কাজ

    এম.এল.এম ব্যবসা শুরুর সাথে সাথেই প্রত্যেকের জানার কৌতুহল থাকে কিংবা যে প্রশ্নটি মাথায় ঘুরপাক খায় তা হলোঃ “আমার কাজ কি?” নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর প্রথম কাজ হলো নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা বা এম.এল.এম ব্যবসা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন, যে প্রতিষ্ঠানে আপনি কাজ করতে সম্মত হয়েছেন সে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানা। কি বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা প্রয়োজন তা ব্যবসার শুরুতেই আপনার চিন্তায় আসবে না। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত প্রশ্নোত্তরগুলো আপনার সঠিক জ্ঞানার্জনে সহায়ক হবে।

    ক) নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা কি?

    খ) অন্যান্য মার্কেটিং পদ্ধতির সাথে এ পদ্ধতির পার্থক্য কি?

    গ) নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির সম্ভাবনা কতটুকু?

    ঘ) এ মার্কেটিং পদ্ধতিতে প্রত্যেকের কাজ করার সুযোগ আছে কি না?

    ঙ) এ প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবা সমূহ কি?

    চ) এ প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

    ছ) কমিশন প্ল্যানের মাধ্যমে কত সময় আয় করা সম্ভব?

    জ) এ প্রতিষ্ঠানের পণ্যের গুণগত মান কেমন?

    ঝ) বিশ্বব্যাপী যেসব এম.এল.এম প্রতিষ্ঠান ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা কেমন?

    ঞ) এ বিপণন পদ্ধতিকে মানুষ কিভাবে গ্রহণ করছে?

    ট) আমাদের দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানীগুলো এ পদ্ধতি অনুসরণ করবে কিনা?

    ঠ) বাংলাদেশে এ পদ্ধতির সম্ভাবনা কেমন?

    উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনার আপ-লাইন বা যার হাত ধরে এ প্রতিষ্ঠানে এসেছেন তার কাছে কিংবা বইয়ের মাধ্যমে জানতে পারবেন। এটিই আপনার প্রথম কাজ।

  • সফল দল (টীম) গঠন করার কৌশল

  • এম রহমান আরিফ

     

    যে কোন সংগঠনের বা প্রতিষ্ঠানে সফলতার মূলভিত্তি শক্তিশালী দল বা টীম গঠন। সেটা হোক ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা, হোক স্থাপত্য নির্মান কিংবা উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি সব কিছুর মূলে রয়েছে শক্তিশালী দলের ভূমিকা। দলীয় লক্ষ্য অর্জন সহজতর হয় যখন ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জিত হয় যা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় শতভাগ সত্য। প্রতিটি মানুষেরই দলগঠন করার কিছু কৌশল জানা থাকে যা জন্মলাভের পর পরিবেশ হতে শিখতে থাকে। আপনি যখনই দল গঠন করতে যাবেন নিন্মোক্ত কিছু বিষয় নির্ধারন করে নিনঃ

     

    ১. দল বা টীমের লক্ষ্য কি?    ২. দল বা টীমের উদ্দেশ্য কি?  ৩. দলের নীতিমালা কি হবে?   ৪. দলের কার্যক্রম কি হবে?   

     

    আপনার অভিজ্ঞতা, শিক্ষন, আপ-লাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের সহিত আলোচনা এবং এক্সপার্টদের পরামর্শ গ্রহন করবেন উপরোক্ত বিষয়গুলো নির্ধারনের ক্ষেত্রে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় এককভাবে কেহ সফল হতে পারে না। অন্যদের সহযোগিতা ব্যতীত উদাহরণ স্বরূপ ধরুন, আপনি আপনার ডাউনলাইনারদের নিয়ে যে দলটি গঠন করেছেন এর নাম দিয়েছেন “বিবর্তন চ্যালেঞ্জ গ্রুপ।” আপনার ঠিক ইমিডিয়েট ডাউনলাইনার (যাকে সরাসরি হাত বলে থাকি) আর একটি দল গঠন করেছে যার নাম “এক্সপার্ট মিশন গ্রুপ” ধরে নিই আপনার ডাউনলাইনের এরূপ দশটি গ্রুপ বা দল কাজ করছে। ডাউনলাইনের প্রত্যেকটি দলের সফলতা আপনার জন্য সফলতা বয়ে আনবে। লক্ষ্য করুন প্রতিটি দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে সামঞ্জস্য আছে। দলনেতা হিসেবে আপনার কাজ হবে নীতিমালা ও কার্যক্রম নির্ধারনে সহযোগিতা প্রদান। আপনার ডাউনলাইনের প্রতিটি দল বা গ্রুপই আপনার গ্রুপের সাব-গ্রুপ।

     

    এবার দেখা যাক যাদের নিয়ে দল বা গ্রুপ তৈরী করবেন তাদের কিভাবে বাছাই করবেন। আপনার ডাউনলাইনের প্রত্যেক ডিস্ট্রিবিউটরই আপনার গ্রুপের সদস্য, কিন্তু এদের মধ্যে রয়েছে পরিশ্রমী আবার কেউবা অলস। কারো আগ্রহ বেশি কারও কম। এদের মধ্য হতে বাছাই করতে হবে গ্রুপের দায়িত্বশীল লোকদের। বাছাইয়ের জন্য নিন্মোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করুনঃ

     

    প্রথম ধাপঃ ডাউনলাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের জীবন বৃত্তান্ত সংগ্রহ করুন। এবার পরীক্ষা করে দেখুন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মতো তার যোগ্যতা আছে কিনা।

     

    দ্বিতীয় ধাপঃ ব্যক্তির আগ্রহ যাচাই করুন। শখের বসে যারা কাজ করছে তারা যে কোন দলের জন্য উপযুক্ত নয়। যারা এ ব্যবসা সম্পর্কে খুবই আশাবাদী ও ফলাফল প্রত্যাশী তাদের চিহ্নিত করুন। এজন্য দক্ষ দলনেতা হিসেবে আপনাকে আগ্রহী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা আবশ্যক।

     

    তৃতীয় ধাপঃ এধাপে আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া যাচাই করুন। কাজের ধরন, নিরলস শ্রম ও ব্যক্তিক উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে ডিস্ট্রিবিউটররা ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া করে। আপনি যাদের নিয়ে দল গঠন করবেন তাদের নিকট হতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া একান্ত আবশ্যক।

     

    চতুর্থ ধাপঃ এধাপটিতে যাচাই করুন আগ্রহী ব্যক্তি কতটুকু দায়িত্বশীল। নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে ব্যর্থ ব্যক্তিদের দায়িত্বপ্রদান অনুচিত। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের খুঁজে নেয়ার জন্য প্রথমে তাদের ছোট কাজ দিন এবং সময় বেঁধে দিন। যারা অধিক আগ্রহী কিন্তু দায়িত্বে অবহেলা করে তারা যে কোন দলের জন্য ক্ষতিকর আবার যারা আগ্রহী ও দায়িত্ব পালন করে তারা দলের নেতৃত্বে যোগ্য।

     

    পঞ্চম ধাপঃ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর ব্যক্তির আগমন ঘটবে আপনার দলে। কেউবা চাকুরীজিবী, কেউবা ব্যবসায়ী, কেউবা ছাত্র, কেউবা গৃহবধু, কেউবা চাকুরী সন্ধানী, কেউবা পেশাজীবি ইত্যাদি। আপনাকে কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে যেমনঃ- চাকুরীজিবীরা পূর্ণ সময় প্রদানে অক্ষম, আবার গৃহবধুরা নির্দিষ্ট সময় প্রদান করতে পারবেন না ইত্যাদি।

     

    উপরোক্ত সব বিষয়গুলো বিবেচনা করে দল গঠন করতে হবে। একই দলে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর লোকজনের সমাগম ঘটাতে হবে। এতে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের সংমিশ্রণ ঘটে। এর ফলাফলও অনেক শ্রেয়।
  • হারবাল পণ্য ও নিউট্রিশনাল ফুড সাপ্লিমেন্টস বিক্রয় কৌশল

  • এম রহমান আরিফ বিশ্বব্যাপী মাল্টিলেভেল মার্কেটিং, কিংবা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীগুলোর অনেকগুলোই হারবাল পণ্য সামগ্রী এবং ফুড সাপ্লিমেন্টস্ বাজারজাত করে। ঔষধ সামগ্রী ও খাদ্যদ্রব্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সফলতা লাভ করে দুটি কারণে প্রথমতঃ মৌলিক চাহিদা পূরণ ও জীবন রক্ষাকারী ঔষধ বিপণন করে বিধায় এবং দ্বিতীয়টি হলো এমএলএম এর মতো আধুনিকতম বিপণন পদ্ধতি গ্রহণ। একারণে এসব প্রতিষ্ঠানের কমিশন প্ল্যান যাই হোক না কেন বাজারে তাদের অবস্থান বরাবরই ভাল। বর্তমানে আমাদের দেশে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এবং অধিকাংশই জীবন রক্ষাকারী ঔষধ, হারবাল পণ্য ও প্রসাধনী এবং খাদ্য সামগ্রী বাজারজাত করছে। এখন হারবাল পণ্য ও নিউট্রিশনাল ফুড প্রোডাক্টস বিক্রয়ে সেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় তা সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব।

     

    প্রথম পদক্ষেপ হলো আপনার প্রতিষ্ঠান ও পণ্য সামগ্রী সম্পর্কে জানুন। পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হউন। পণ্যের মোড়কে যেসব নির্দেশনা দেয়া থাকে তা ভালোভাবে পড়–ন। পণ্যের মূল্য বাজারের সাথে সংগতিপূর্ণ কিনা যাচাই করে নিন।

     

    দ্বিতীয় পদক্ষেপ হলো পণ্যের ব্যবহার ও প্রয়োগ ভালোভাবে জানার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন বিক্রয় ও বিপণন কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্য পণ্য সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা আবশ্যক।

     

    তৃতীয় পদক্ষেপ ক্রেতা চিহ্নিতকরণ এ পর্যায়ে আপনাকে উক্ত পণ্যের ক্রেতা বা ভোক্তা চিহ্নিত করতে হবে। হারবাল পণ্য ক্রয়ের জন্য ক্রেতাকে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। “সুস্থ ও নিরাপদ জীবনের জন্য হারবাল ও নিউট্রিশনাল ফুড গ্রহণ প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজন” এ স্লোগানটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ক্রেতা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বয়স, আর্থিক অবস্থান, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করতে হবে। ক্রেতার চাহিদা কি বা কি হতে পারে এবং মনোভাব বিশ্লেষণ করা উচিত। যেমন এমন অনেকেই আছেন যারা হারবাল পণ্যে আস্থা রাখে কিন্তু নির্ভরযোগ্যতা ও সঠিক তথ্যের অভাবে ক্রয় হতে বিরত থাকে। অতএব ক্রেতা চিহ্নিতকরণ সফল বিক্রয় কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

     

    চতুর্থ পদক্ষেপ হলো সেল্স টীম বা বিক্রয় দল গঠন। এমএলএম পদ্ধতিতে সেল্স টীম ব্যতীত এককভাবে পণ্য বিক্রয় করে সাফল্য লাভ অনেক কঠিন। বরং স্পন্সরিং এর মাধ্যমে টীম (দল) গঠন ও সম্মিলিত প্রয়াসই সফলতার মূল ভিত্তি। এজন্য উচ্চকাঙ্খী, আয়প্রত্যাশী, পরিশ্রমী মানুষ বাছাই করুন যারা আপনার সেল্স টীমের সদস্য হবেন।

     

    উপরোক্ত পদক্ষেপ অনুযায়ী এগুলো যে কেহ লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। এমএলএম ব্যবসায় পরিশ্রম নেই এমন ধারণা ভুল। তবে এ সত্য যে অনেক কম পরিশ্রম ও ঝুঁকিবিহীন ব্যবসার মাধ্যমে দ্রুত আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জন করা সম্ভব, স্বাধীন জীবন যাপন সম্ভব। আমরা এমওয়ে কর্পোরেশন, ইউজানা, এভন কিংবা হারলাইফ ইন্টারন্যাশনাল সম্পর্কে জানলে এর সত্যতা অনুধাবন করতে পারব।
  • নেটওয়ার্ক মার্কেটিং দক্ষতা অর্জনের উপায়

  • এম রহমান আরিফ

     

    নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় সফলতা লাভের জন্য কিংবা রয়্যালটি আয় উপভোগ করার জন্য প্রয়োজন দক্ষতা অর্জন। এমএলএম দক্ষতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা যেতে পারে তন্মধ্যে নিন্মোক্ত বিষয়সমূহ অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন ত্বরান্বিত হয়।

     

    ক. সংশ্লিষ্ট বিষয়টি ভালভাবে জানাঃ  নেটওয়ার্ক মার্কেটিং হোক কিংবা অন্য কোন পেশা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট বিষয়টি ভালোভাবে জানা, ভালোভাবে জেনে শুরু করা আর না জেনে শুরু এ দুয়ের পার্থক্য হলো সাফল্য। কারণ বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান লাভের জন্য প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস থাকতে হবে, পৃথিবীর খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে হবে এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করুন।

     

    খ. সফল নেটওয়ার্কারদের অনুসরণ করুনঃ  দক্ষতা অর্জনের জন্য সফল নেটওয়ার্কারদের অনুসরন করুন যেমন-তারা কিভাবে কাজ করছে, কিভাবে কথা বলছে, কিভাবে প্রেরণা যুগাচ্ছে, কি উপদেশ দিচ্ছে, কিভাবে গ্রুপ বা দলের নেতৃত্ব দিচ্ছে, পণ্য বিক্রয়ে কি কৌশল অবলম্বন করছে ইত্যাদি। আপনি জ্ঞানী হলেও নেটওয়ার্ক মার্কেটিং সম্পর্কিত জ্ঞান তাদের বেশি থাকাই স্বাভাবিক, নতুন নতুন তথ্য জানার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। নিজের চেয়ে সফল যারা তাদের অনুসরণ করা মানে নিজের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করা।

     

    গ. ভালো বক্তা হয়ে উঠুনঃ  ভালো বক্তা হওয়ার জন্য ভালো জানতে হবে এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। এজন্য ভালো বক্তা হওয়া মানে দক্ষতা অর্জনে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া। শুধু নিজে বলবেন তা নয় অন্যদের বলার সুযোগ দিতে হবে। অধিকাংশ ব্যক্তির মতামতের সহিত যখন আপনার মতামত মিলে যাবে তখনই বুঝবেন আপনার সিদ্ধান্ত সমূহ সঙ্গতিপূর্ণ যা দক্ষতার পরিচয় বহন করে।

     

    ঘ. সকল প্রকার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুনঃ  দক্ষতা অর্জনের জন্য সকল প্রকার প্রশিক্ষন গ্রহন করতে হবে যেমন পণ্য সম্পর্কিত ও বিক্রয় সম্পর্কিত প্রশিক্ষন, প্রেষণামূলক প্রশিক্ষণ, মনোভাব বিষয়ক প্রশিক্ষণ, কমিশন পদ্ধতি ও টীম বিল্ডিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। প্রতিটি বিষয়ের পৃথক প্রশিক্ষন আপনাকে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা লাভে এগিয়ে নেবে। প্রশিক্ষনের পর যে কোন কাজ পূর্বের চেয়ে অনেক সহজবোধ্য মনে হবে এবং সঠিকভাবে সম্পাদন করার অনেক কৌশল আপনি বের করতে সক্ষম হবেন।

     

    ঙ. এমএলএম এর মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত  করুনঃ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় সফলতার জন্য দক্ষতা প্রয়োজন এবং দক্ষতা লাভের জন্য এমএলএম-এর মৌলিক বিষয় যেমন প্রেজেন্টেশন, ক্লোজিং, ফলোআপ, প্রশিক্ষন ইত্যাদি বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে হবে। ডাউন-লাইনে ডিস্ট্রিবিউটরের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে আপ-লাইনার বা লিডারদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। দক্ষতার সাথে পরিচালনায় ব্যর্থ হলে আপনার সফলতার সম্ভাবনাও ক্ষীন হয়ে আসবে। এজন্য এমএলএম এর মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত করে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

     

    চ. ভালো উদ্যোগী হয়ে উঠুনঃ  যে কোন কাজে উদ্যোগ গ্রহন করা একটি উৎকৃষ্ঠ গুণ। কিছু মানুষ আছে যারা বেশ উদ্যোগী এবং এমন নতুন নতুন বিষয় তারা তৈরী করে যা দ্বারা সকলেই উৎসাহী হয়। ভালো ও আকর্ষণীয় বিষয়গুলো নিয়ে ভাবুন এবং উদ্যোগ নিন তা সম্পন্ন করার। যেমন ধরুন দীর্ঘদিন যাবত একই স্থানে (বদ্ধরুমে) প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন হঠাৎ এর পরিবর্তন করে নতুন উন্মুক্ত কোন স্থানে আয়োজন করলে তা অবশ্যই আকর্ষণীয় ও ফলপ্রসূ হবে। এসব উদ্যোগ গ্রহন দক্ষতার ছাপ রাখবে।

     

    ছ. কাজে আনন্দ সৃষ্টি করুনঃ  যে কাজ আপনাকে আনন্দ দেয় সে কাজের ফলাফলও চমৎকার। অর্থাৎ যে কাজ আপনাকে করতে হবে সে কাজে আনন্দ সৃষ্টি করুন। মনে রাখবেন কাজ করার সময় কাজের ফলাফলের চিন্তা না করে সঠিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করুন। যেমন ভালো ক্লোজিং ও সঠিক সময়ে ফলোআপ করলে সম্ভাব্য ক্রেতার ইতিবাচক ফলাফল আসবেই। এজন্য যে কাজ করা উচিত তা আগে করুন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কাজে আনন্দ তৈরী করুন।
  • কেন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় অনেকে ব্যর্থ হয়

  • এম রহমান আরিফ

     

    যারা ব্যর্থ তারা সব কাজে ব্যর্থতার সম্ভাবনা থাকে। কারণ তারা কাজে নামার পূর্বে ব্যর্থতার ভয় কাঁধে নিয়ে নেয়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং একটি সহজ ব্যবসা। কিন্তু অনেকের জন্য ভয়ংকর রকম জটিল। কোনো ধারণা নেই এমন একজন লোক যখন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা আরম্ভ করে এবং কোনো প্রশিক্ষণ ব্যতীত নতুনদের পরামর্শ দেয় তবে তার ব্যবসা জটিল হবেই। একজন অতি বুদ্ধিমান লোক যখন জানতে পারলেন ডাউন-লাইনের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে কমিশন বৃদ্ধি পায় পরদিন তিনজন নতুন অতিথি নিয়ে উপস্থিত হলেন। কিন্তু অতি বুদ্ধিমান লোকটি তখনো ব্যবসারম্ভ করেননি। পরের ঘটনা বুঝতেই পারছেন চারজনই তর্কে জড়িয়ে পড়ল কে আগে জয়েন করবে। এজন্য এ ব্যবসায় প্রশিক্ষন কিংবা দিক নির্দেশনা অত্যাবশ্যক। আমরা এক নজরে দেখে নেই কেন এমএলএম ব্যবসায় অনেকে ব্যর্থ হয়।

     

    ক. যিনি ব্যবসা বুঝেন নাঃ   নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিকে আমরা ব্যবসা হিসেবে চিহ্নিত করি। অবশ্যই সফলতার জন্য ব্যবসা বুঝতে হবে। ব্যবসা মানে কি শুধু লাভ-ক্ষতির? দশ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে প্রথম একবছর শোরুম কিংবা ঘরভাড়া যোগান দেয়া কষ্টকর হয়ে যেতে পারে। তাহলে কি পরের বছরই ব্যবসা ছেড়ে দেয়? ধৈর্য্য, অভিজ্ঞতা অর্জন, পরিচিতি ও মুনাফা অর্জন করতে হবে তবেই লাভ আসবে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় সবকিছুর জন্য যদি দুমাস ব্যয় করেন-দীর্ঘ মেয়াদী আয়ের পর সৃষ্টি হবে। যিনি দু’মাস ব্যয় করতে পারেননা ধরে নিতে হবে তিনি ব্যবসা বুঝেন না। তিনি ব্যর্থ হবেন এটাই সত্য।

     

    খ. মার্কেটিং জানেন না বলেইঃ  যে কোন পণ্য বিপননে আপনাকে কথা বলতে হবে। পণ্যের গুণাগুণ, মূল্য, বিক্রয়োত্তর সেবা ইত্যাদি বলতে না পারলে বিক্রয় সম্ভব হয় না। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ এসব ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী কমিশন ও রেমিডিউল আয়ের সম্পর্কে বলতে হবে ক্রেতাদের। অর্থাৎ কোম্পানী, পদ্ধতি ও পণ্য সম্পর্কিত বিপননে ব্যর্থ হলে আপনি ব্যর্থ হবেন। আমরা নেতিবাচক পরিবেশে বাস করে এমন অভ্যস্থ যে কেউ কোন সুযোগ বা সম্ভাবনার কথা বললে ও বিশ্বাস করতে চাইনা। এজন্য ভালো বিক্রয়কর্মী না হলে আপনি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ সফলতা পাবেন না।

     

    গ. অসৎ উপায় অবলম্বনঃ  এমএলএম ব্যবসায় সফলতা প্রাপ্তি যেমন সহজ তেমনি ব্যর্থতাও দেখা যায় যখন কেউ অসৎ উপায় অবলম্বন করে যেমন ডাউন-লাইনের অতিথি চুরি করা, তাদের ভুল পরামর্শ দেয়া, অন্য গ্রুপে বিবাদ সৃষ্টি করা অন্যদের অর্থ আত্মস্বাত করা ইত্যাদি। যেহেতু এমএলএম ব্যবসায় ডুপ্লিকেশন হয় এজন্য আপনি যা করবেন ঠিক আপনাকেই অনুসরন করবে আপনার ডাউন-লাইনাররা। আপনার শিখানো পন্থায় আপনাকে ব্যর্থ হতে বাধ্য করবে।

     

    ঘ. অন্যের উপর নির্ভরশীলতাঃ  নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় দলীয় উৎপাদনশীলতা অনেক বেশি তাই বলে অন্যের উপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না। নিজের কর্মদক্ষতা প্রমান করতে পারলেই সফল হওয়া সম্ভব। অনেক বুদ্ধিমান মানুষ নির্বুদ্ধিতার কাজ করে যখন অন্যকে দিয়ে নিজের কাজটুকু সারিয়ে ফেলতে চায়। এ ব্যবসায় প্রত্যেককে দৌড়াঁতে হয় যারা পিছনে পড়ে যায় তারা পূনরায় নিজস্থান দখল করতে বহুগুণ কষ্ট করতে হয়। যারা নির্ভরশীল তাদের ব্যর্থতা অনিবার্য।

     

    ঙ. নেতৃত্ব প্রদানে ব্যর্থতাঃ  নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় এককভাবে বিপণন করে বেশি দূর এগোনো যায় না। যখনই নতুন কাউকে স্পন্সর করবেন কিংবা দলগঠন করার চেষ্টা করবেন তখনি নেতৃত্ব প্রদানের বিষয়টি চলে আসে। আপনার ডাউন-লাইনে যতবেশি নেতা তৈরীতে সক্ষম হবেন আপনার সফলতা তত বেশি হবে। কিন্তু নেতা তৈরীর জন্য আপনাকে নেতা হতে হবে। অর্থাৎ নেতৃত্ব প্রদানের সামর্থ্য প্রয়োজন। নেতৃত্ব প্রদানে ব্যর্থতার দরুন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় অনেকে ব্যর্থ হয়।
  • টেলিফোনে আলাপ করার কয়েকটি কৌশল

  • এম রহমান আরিফ

     

    বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবহার করে আমরা অতিথি বা নতুন ডিস্ট্রিবিউটরদের সহিত যোগাযোগ করতে পারি। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো টেলিফোন। মনের ভাব প্রকাশ করা ও কুশল বিনিময়ের অন্যতম পন্থা টেলিফোনিক আলাপ। আমরা নিম্নোক্ত কিছু বিষয়ের প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখব যা পরবর্তীতে সফলতা অর্জনে সহায়ক হবে।

     

    নিজেকে তৈরী করে নিনঃ  মানসিকভাবে নিজেকে প্রথমে প্রস্তুত করে নিন যা আপনাকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ আত্ববিশ্বাসী না হলে আপনার ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে বেশি কি ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারেন তার একটি সম্ভাব্য তালিকা প্রস্তুত করুন এবং তা চর্চা করুন।

     

    সঠিকভাবে স্ক্রিপট তৈরী করুনঃ  টেলিফোনিক আলোচনার পূর্বে একটি স্ত্রিপট তৈরী করে হাতে রাখুন। টেলিফোনে আলোচনার সময় অনেক কিছু তাৎক্ষণিক আপনার মনে নাও আসতে পারে। এজন্য স্ক্রিপট উল্লেখিত পয়েন্টগুলো আলোচনায় সহায়ক হবে। সঠিকও নির্ভুল তথ্য দিয়ে স্ত্রিপট তৈরী করুন যাতে গ্রহীতা বিভ্রান্ত না হন।

     

    গ্রহীতার মনোযোগের প্রতি লক্ষ্য রাখুনঃ  উদ্দেশ্যে ফোন করেছেন তা যেন কোন অবস্থাতেই ভেস্তে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। এজন্য গ্রতীতা কতটুকু আগ্রহ বা মনোযোগ গিয়ে আপনার কথাগুলো শুনছে তার প্রতি সজাগ থাকুন। সাধারণত গ্রহীতা কোন কাজে ব্যস্ত থাকলে আপনার সুন্দর কথাগুলো ও তার নিকট বিরক্তিকর মনে হবে ফলে ব্যবসার ইতিবাচক দিকগুলো সে ভালোভাবে গ্রহন লাভ করতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে নিন এবং পরবর্তীতে আলোচনার প্রস্তাব জানিয়ে সৌজন্যতার সহিত বিদায় নিন। টেলিফোনে কথা বলার সময় গ্রহীতাকে আগ্রহী মনে হবে যখন তখন সামনা সামনি আলোচনার প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিন।

     

    শুনতে অভ্যস্ত হউনঃ  নিজেকে ভালো শ্রোতা হিসেবে তৈরী করে নিন। আপনার পরিচিতজনের নিকট ফোন করার পর খুব স্বাভাবিক যে তিনি আপনার ব্যাপারে জানতে চাইবেন এবং তার নিজের সাফল্য ও সমস্যা আপনাকে শুনাতে চাইবেন। এতে তিনি দীর্ঘ সময় নিলেও তা আপনাকে ধৈর্য্য সহকারে শুনতে হবে। আপনার শোনার অনাগ্রহ তিনি যাতে কোন অবস্থায় বুঝতে না পারেন। সাধারণত মানুষ শোনার চেয়ে বলতে অভ্যস্ত, কিন্তু আপনাকে শুনার অভ্যস্ত হতে হবে। দ্বিমুখী আলোচনায় কোন প্রকার নেতিবাচক মনোভাব আপনার সাফল্যের অন্তরায়। এজন্য ইতিবাচক মনোভাব ও আলোচনা একান্ত প্রয়োজন।

     

    ধৈর্য্যশীল হউনঃ  সম্ভাবনাময় ক্রেতার নিকট ফোন করার সময় ধৈর্য্যশীল হতে হবে। সাধারণত প্রথমবার ব্যবসার বিষয় সম্পর্কে আপনি আলোচনার সুযোগ নাও পেতে পারেন। পূণরায় সময় চেয়ে নিন এবং সুযোগ বুঝে ব্যবসার সম্ভাবনার কথা বলুন। মনে রাখবেন যে শ্রোতা যত বেশি সময় নিবে আর কার্যক্রম তত ইতিবাচক হবে।

     

    কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখুনঃ  বিক্রয়কর্মীদের ন্যায় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকুন এক কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখুন। গ্রহীতা (অতিথি) কে সুযোগ প্রদান করবেন এমন ধারনার চেয়ে তাকে সম্ভাবনাময় ব্যবসার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রথম আচরন করুন আপনার কণ্ঠস্বর ও কথাবার্তার- মাধ্যমে সম্ভাবনাময় গ্রাহক হয়তো বুঝে নিতে পারেন আপনি কোন ব্যবসার কথা বলছেন, এক্ষেত্রে আপনি ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করুন এবং আপনার কার্যক্রম দেখার আমন্ত্রন করুন।

     

    পূনঃপূনঃ ফোন করবেন নাঃ  আপনি প্রথমবার ফোন করে ব্যর্থ হওয়ার পর অর্থাৎ গ্রাহক সম্পূর্ণ নেতিবাচক মনোভাব প্রদর্শনের পর আপনি পূনরায় ফোন করবেন না। আপনি দ্বিতীয় কোন মাধ্যম ব্যবহার করে তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন এবং এমন পরিবেশ তৈরী করুন যাতে গ্রাহক নিজেই আপনাকে ফোন করে। এবার গ্রাহকের আগ্রহ যাচাই করে আলোচনায় বসুন। সম্ভাবনাময় গ্রাহকের সাথে আলোচনার পূর্বে প্রয়োজনে আপনার দলনেতার সহিত আলোচনা করে নিন।

     

    নেতিবাচক কথা বলবেন নাঃ  নেতিবাচক কথোপকখন আপনার সাফল্যের অন্তরায়। যখনি গ্রাহক নেতিবাচক মনোভাব পোষন করবেন তখনি যুক্তি দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করুন। সাধারণত নেটওয়ার্ক মার্কেটিং সম্পর্কে না জেনে শুধু লোকমুখে শুনে অনেকে মন্তব্য করে। আপনি তাকে সচক্ষে দেখার ও বুঝার আমন্ত্রণ করুন তাতে গ্রাহক অধিকতর পজেটিভ হবেনা।
  • সফল হওয়ার জন্য ডিস্ট্রিবউটরদের যেসব গুণাবলী থাকা প্রয়োজন

  • এম রহমান আরিফ

     

    যে কোন ক্ষেত্রে সাফ্যল্য প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজন পূর্ব প্রস্তুতি। অর্থাৎ লক্ষ্য নির্ধারণ, পরিকল্পনা, দৃঢ় মনোবল ও পরিশ্রম। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় সফলতার জন্য প্রয়োজন-আত্মনির্মাণ। কি করা উচিত, কি অনুচিত, কি করা প্রয়োজন, আর কি প্রয়োজন নহে, কি ভালো আর কি মন্দ এসব বুঝতে পারলেই আপনি আত্মনির্মাণ করতে পারবেন। আত্মনির্মাণে সঠিকপথ খুঁজে নিতে নিমোক্ত বিষয়গুলো সহায়ক হতে পারে।

     

    সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করুনঃ   জীবনের অনেক পর্যায়ে লক্ষ্য স্থির করলেও তা অর্জন করতে পারেননি। এস এস সি পাশ করে জীবনের লক্ষ্য স্থির করেছিলেন ডাক্তার হবেন, কিন্তু তা হতে পারেননি। মাস্টার্স করে চাকুরীর খোঁজে যখন জুতার নিচের অংশে খসে পড়ল তখন জীবনের লক্ষ্য থাকবেই বা কেন? কিন্তু আত্মনির্মাণে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ অত্যাবশ্যক, আপনার লক্ষ্য অবশ্যই বাস্তব সম্মত হতে হবে, যদি তাই হয় তবে আত্মনির্মাণে একধাপ এগিয়ে গেলেন।

     

    চিন্তা ও কাজের সমন্বয় ঘটানঃ  আপনার চিন্তা যতটা গঠনমূলক হবে তেমনি কাজেও গতিশীলতা আনবে। সকালের কাজে যেমনটি চিন্তা করেছেন- সকাল নয়টায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ, তারপর প্রেজেন্টেশন, ক্লোজিং, ফলোআপ ও গ্র“প মিটিং ইত্যাদি। যখনই উপরোক্ত কাজগুলো সময় মতো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করবেন মনে প্রশান্তি আসবে, অর্থাৎ চিন্তা ও কাজের সমন্বয় ঘটাতে আপনি সক্ষম।

     

    পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সজাগ থাকুনঃ  যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তা অবশ্যই আপনার মঙ্গল বয়ে আনবে। পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপ ক্রমান্বয়ে অতিক্রম করতে পারলেন কিনা সেদিকে সজাগ থাকুন। পরিকল্পনায় একধাপ এগিয়ে যাওয়া মানেই আপনার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাওয়া। সুষ্ঠ পরিকল্পনা মানে সাফল্যের পথ অর্ধেক অতিক্রম করা।

     

    অন্যকে জয় করুন, আপনার জয় সুনিশ্চিতঃ  অন্যকে জয় করার জন্য নিজেকে সঁপে দিন। এ ব্যবসায় যা খুবই কার্যকর উপায় তা হল আপনি দশজনের কথা ভাবুন, অবশ্যই তারা আপনার জয় নিশ্চিত করবে। কাউকে সাফল্যের চূঁড়ায় পৌঁছে দেয়ার প্রয়োজন নেই, সঠিক পথ ও সঠিক পরামর্শ দিন। আপনাকে তারাই এগিয়ে নেবে যাদের আপনি পথ দেখাবেন।

     

    নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলুনঃ  যেখানে আপনার প্রয়োজন নেই সেখানে আপনার সফলতাও নেই। অনেকের মাঝে যখন আপনার গুরুত্ব বেশী তখন আপনার নির্দেশ কিংবা উপদেশ পালন করার মানুষও বেশী। অনেক বড় হয়েও যখন আপনি গুরুত্বপূর্ণ নন ধরে নিন আপনি ব্যর্থ। সাধারণত যে কোন ডিস্ট্রিবিউটরের জন্য তার ডাউনলাইন ক্রেতাগণ অধিক গুরুত্বপূর্ণ । আপনার ডাউনলাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের নিকট নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে হবে।

     

    ইতিবাচক মনোভাব ও সৃজনশীল ভাবনাঃ  আত্মনির্মাণ করতে ইতিবাচক মনোভাব আবশ্যক। ইতিবাচক মনোভাব ছাড়া আপনার কল্পনাশক্তিও কাজ করবে না। এ জন্য নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ নেতিবাচক মনোভাবেন কোন স্থান নেই। ইতিবাচক মনোভাব সেখানেই যেখানে সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনার জন্ম হয়। সৃজনশীলতাই সাফল্যের সহজ পথ সৃষ্টি করে।

     

    প্রত্যেকের কথার মূল্যায়ন করুনঃ  আমরা সাধারণত বলতে পছন্দ করি, শুনতে নয়। যারা বেশী শুনে বলে কম তারা বুদ্ধিমান। বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন কিছু শেখার সুযোগ আছে। এজন্য প্রত্যেকের কথার মূল্যায়ন করুন। তাদের বলতে দিন। তাদের দশটি কথার একটি আপনার ভালো লাগতে পারে- তা মনে রাখুন, বাকীটুকু ঝেড়ে ফেলুন।
  • নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ গ্রুপ বা দলের সুবিধাসমূহ

  • এম রহমান আরিফ

     

    মানুষ সামাজিক জীবন। প্রাচীন কাল থেকে মানুষ দল বদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য মানুষ দল গঠন করে মানুষ এককভাবে যা সম্পাদন করতে পারে না তা দলীয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে। নিজের ও সংগঠনের প্রয়োজনেই মানুষ দল বা গ্রুপ তৈরী করে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় দল গঠন করতে লিডাররাই মূল ভূমিকা পালন করে। লিডাররা একটি একটি দল বা গ্রুপের নেতৃত্ব প্রদান করে ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রেরনা যোগ্যতে সহায়তা করে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ দল গঠনের সুবিধা সমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ

     

    ক. সহজে কার্য সম্পাদনঃ  নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা অন্য যে কোন কাজ যখন একজন ডিস্ট্রিবিউটর একক প্রচেষ্ঠায় সম্পন্ন করতে পারে না তখন অনেকে মিলে সে কাজ সম্মলিত ভাবে সহজেই সম্পন্ন করতে পারে। এতে দলের সকলেই কম বেশি উপকৃত হয়ে থাকেনা। দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে একজন অন্যের উপর আস্থা রাখতে হবে।

     

    খ. কাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিঃ  নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় বিক্রয়কর্মী বা ডিস্ট্রিবিউটরদের কাজের প্রতি আগ্রহের উপরই নির্ভর করে সাফল্য। দলবদ্ধভাবে কাজ করার মাধ্যমে প্রত্যেকের আগ্রহ অনেকাংশে বেড়ে যায়। দলের অনেকের সফলতা দেখে নতুনরা কাজ করার আগ্রহ প্রদর্শন করে। এ ধরনের পদ্ধতিতে একজনের সফলতা অনেকাংশে অন্যের উপর নির্ভরশীল যার দরুন একে অন্যের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।

     

    গ. মর্যাদা ও তৃপ্তি লাভঃ  নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে দল গঠনের মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউটরগণ সাফল্য অর্জন করে যেমন তৃপ্তিলাভ করে তেমনি বড় দলে কাজ করার দরুন মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। একজন ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ক্রমে যখন দলের নেতৃত্ব লাভ করে দলের অন্যরাও অধিক পরিশ্রম করে সাফল্য অর্জনের প্রচেষ্ঠা করে।

     

    ঘ. দলীয় শক্তি বৃহৎ শক্তিঃ  একটি দল বা গ্রুপে একাধিক ডিস্ট্রিবিউটর ও লিডার থাকে বিধায় সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় একটি বৃহৎ শক্তি গড়ে উঠে। এ শক্তির উপর ভিত্তি করে অনেক জটিল কাজ সহজে সমাধান কার যায়। দলীয় শক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরী হয় বড় নেটওয়ার্ক যা সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়।

     

    ঙ. সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনঃ  দলীয় সিদ্ধান্ত নেটওয়ার্ক পদ্ধতিতে খুবই ফলপ্রসু। স্বাভাবিকভাবেই আমরা দেখতে এককভাবে গৃহীত সিদ্ধান্তের চেয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত অনেক বেশি কার্যকর। অনেকগুলো মস্তিষ্ক যখন আলোচনায় বসে কোন সিদ্ধান্তগ্রহন করে তা সফল হয়েই থাকে কারন এক্ষেত্রে অনেক মেধা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটে।

     

    চ. নিয়ম শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাঃ  প্রত্যেকটি দল বা গ্রুপের কিছু নিয়ম-নীতি, আচরনবিধি ও দলীয় আদর্শ থাকে। একজন ডিস্ট্রিবিউটর দল ভূক্ত হওয়ার সাথে সাথে ঐ নিয়মনীতি ও বিধিসমূহ মেনে চলে। প্রত্যেক দল বা গ্রুপের দলীয় নিয়ম শৃঙ্খলার দরুন সম্পূর্ন প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়।

     

    ছ. প্রেষনা বৃদ্ধিঃ  দলে অন্তগত একে অন্যের কাজে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের দরুন কাজের গতি বৃদ্ধি পায়। দলীয় গতিশীলতা ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রেষনা যোগায়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে আপ-লাইন ডিস্ট্রিবিউটর নিজের অগ্রগতির জন্য ডাউন লাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রেষনা প্রদান করে। এসব প্রেষনা প্রদানের জন্য বিভিন্ন প্রকার পুরষ্কার ও বোনাস প্রদান করে দলের পক্ষ হতে। পারস্পরিক সম্পর্ক সৃষ্টির জন্যই দলে প্রেষনামূলক পরিবেশ বজায় থাকে।

     

    জ. মনোবল বৃদ্ধিঃ  নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে প্রতিটি গ্রুপ বা দল মনোবল বৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। এক একটি দলে ডিস্ট্রিবিউটর, সিনিয়র ডিস্ট্রিবিউটর ও নতুনদের সহিত আপ-লাইন লিডারদের যোগাযোগ থাকে বিধায় একের সাফল্য অন্যের মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ও আন্তরিকতা থাকে বিধায় এ পদ্ধতিতে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠে যা নতুনদের মনোবল বাড়িয়ে দেয়।

     

    ঝ. যোগাযোগ উন্নয়নঃ  নেটওর্য়াকারদের সহিত ডিস্ট্রিবিউটর ও নতুনদের যোগাযোগ যত সহজতর হয় তত বেশি সফলতা অর্জিত হয়। লিডার ও ডিস্ট্রিবিউটর একে অন্যের সহিত দুরত্ব বা ব্যবধান কমানোর মাধ্যমে দলীয় তৎপরতা বৃদ্ধি ঘটে। এককথায় তথ্যের আদান প্রদান আন্তঃসম্পর্ক তৈরীর জন্য যোগাযোগ অপরিহার্য যা অর্জিত হয় দল গঠনের মাধ্যমে।

     

    ঞ. প্রশিক্ষনঃ  সাধারণত নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান নানাধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকে এ ছাড়াও লিডাররা গ্রুপ বা দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করে যা দলীয় লক্ষ্য অর্জনে ফলপ্রসু হয়ে থাকে। সার্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সফল হওয়ার জন্য কোম্পানী বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করলেও বিভিন্ন দলের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচী সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
  • নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার কৌশল

  • এম রহমান আরিফ

     

    যে কোন ব্যবসার মূল লক্ষ্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা অর্থাৎ বিক্রয় বৃদ্ধি করা। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ কারণ এম.এল.এম. খুচরা বিক্রয়ের উপর নির্ভরশীল। খুচরা বিক্রয়ে সরাসরি সম্পৃক্ত ক্রেতাগণ। একজন ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পণ্য ক্রয় করার পাশাপাশি নতুন ক্রেতাদের স্পন্সর করাতে পারলেই দীর্ঘমেয়াদী কমিশন অর্জন সহজতর হয়। নতুন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার কৌশল এমন হতে পারে-

     

    জীবন যাত্রা বদলে ফেলুনঃ  নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসার প্রাথমিক পর্যায়ের আয় দ্বারা আপনার জীবনযাত্রা বদলে ফেলুন। আপনার পরিবর্তন অন্যদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি করবে। আপনার পরিবর্তনে মূল কারণ আয় বৃদ্ধি। আপনার বাড়তি আয়ের জন্য নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা সম্পর্কে জানার পরই ক্রেতারদের আকৃষ্ট করা সহজতর হবে।

     

    সম্পর্ক আরো গভীর করে তুলুনঃ   আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক পূর্বের চেয়ে গভীরতা করে ফেলুন। তাদের সুখ-দুঃখে, সমস্যাগ্রস্থ অবস্থায় পাশাপাশি থাকার চেষ্টা করুন। তাদের কাছে আপনার গ্রহনযোগ্যতা বেশি হলে আপনার দেখানো পথ-ই তারা অনুসরণ করবে।

     

    টেলিফোনে কুশল বিনিময় করুনঃ  প্রত্যেকেই তার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের কাছ হতে ফোন প্রত্যাশা করে। সম্ভাব্য ক্রেতার আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে তার সাথে কুশল বিনিময় করুন। তার পরিবার পরিজনের খোঁজ খবর নিন এবং আপনার নতুন ব্যবসা দেখার নিমন্ত্রন করুন। আপনার ইতিবাচক কথোপকথন সম্ভাব্য ক্রেতার মাঝে আগ্রহ তৈরী করবে।

     

    ক্রেতার কর্মদক্ষতার তারিফ করুনঃ   প্রত্যেক মানুষ নিজের কর্মদক্ষতা সাফল্যের তারিফ শুনতে পছন্দ করে। নেতিবাচক মানুষগুলো এর পেছনে কোন দূরভিসন্ধি খুঁজে বেড়ায়। যেটুকু তারিফ পাওয়ার যোগ্য সেটুকু করুন। পরিশেষে বলুন, “আপনার দ্বারা আরো চমৎকার কিছু সম্ভব, অবশ্য এজন্য আপনার ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট” এ বলে আগ্রহ যাচাই করুন।

     

    আপনার সফলতার কথা বলুনঃ  পরিচিতজনের সাফল্যের কথা সবাই শুনতে পছন্দ করে। তবে এর পূর্বে প্রমান করতে হবে আপনি সফল। আপনি যত সংক্ষেপে ও সুন্দরভাবে আপনার সফলতার কথা সম্পন্ন করতে পারবেন আপনার সম্ভাব্য ক্রেতা ততই আকৃষ্ট হবেন।

     

    সত্য প্রকাশে অনড় থাকুনঃ  আপনি কি করছেন তা অবশ্যই আপনি জানেন। যদি না জেনে করেন তবে আগে জেনে নিন। আপনি যা করছেন তা সত্য, যদি তা অসত্য হয় তবে বিরত থাকুন। সত্য প্রকাশে অনড় থাকুন। আপনার চারপাশের মানুষ আপনার ও আপনার প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ আপনার কর্মের প্রতি আগ্রহী হবে। কাল্পনিক কোন বিষয়কে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন না, সত্য আপনাকে সাফল্যের পথে নিয়ে যাবে। অধিকাংশ ক্রেতাই সত্যের পথ খোঁজেন।

     

    কৃত্রিমতা বর্জন করুন ঃ  কৃত্রিমতা আপনার নিজস্ব সত্তাকে নষ্ট করবে। স্মার্ট হতে গিয়ে এমন আচরণ করবেন না যা ক্রেতার মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে। মনে রাখবেন অধিকাংশ ক্রেতাই বুদ্ধিমান। বুদ্ধিমান ক্রেতা বা প্রসপেক্টদের নিকট বুদ্ধিমত্তার সহিত উপস্থাপন।