• নেটওয়ার্ক মার্কেটিং-এ প্রফেশনালিজম কেন গুরুত্বপূর্ণ

  • এম রহমান আরিফ

     

    পড়াশুনা শেষ করার পর কিংবা কর্মজীবনের শুরুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক পেশা বাছাই করে নেয়া। আপনি যদি চিকিৎসাশাস্ত্র, ইঞ্জিনিয়ারিং, ওকালতি এসব পেশা ছাড়াও চাকুরী কিংবা ব্যবসায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকলে জীবনে প্রতিটি পদক্ষেপে হোঁচট খেতে হবে। আপনি বেছে নিতে পারে একাউন্টেন্সী, প্রশাসনিক অথবা মার্কেটিং ক্ষেত্র এবং স্ব স্ব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আপনাকে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দিবে। তেমনি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে আপনাকে সেই বিষয়টি বেছে নিতে হবে যেখানে আস্থা আছে এবং যে বিষয়টিতে পরিপূর্ণ ধারণা রাখেন। এমন অসংখ্য মানুষ রয়েছেন আমাদের চারপাশে যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী থাকা সত্বেও সফলতার মুখ দেখতে পাননি কারণ তাদের হয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল ছিল অথবা তারা অনেক কঠিন পথ বেছে নিয়েছিল। কর্মজীবনের শুরুতে পেশা ও কাজ বাছাইয়ে ভুল করলে তার মাশুল আপনাকে দিতেই হবে। এবার মূল কথায় আসি, নেটওয়ার্ক মার্কেটিং-এর ক্ষেত্রে প্রফেশনালিজম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিগত এক যুগ ধরে এমন সব অনেক ছেলে-মেয়েদের দেখেছি যারা ৫/৬ বছর এই এমএলএম এর পিছনে দৌঁড়ে নিজেদের ট্র্যাক হারিয়ে ফেলেছেন। তারা চাইলেও অন্য কোন পেশায় ফিরে গিয়ে শুরু করতে পারছে না। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যদি খেলার মাঠই না থাকে তবে আপনি খেলোয়াড় হয়ে কি করবেন। যেখানে মাঠ আছে এবং নিজের নৈপূণ্যতা দেখিয়ে সেরা হতে পারবেন সেখানকার খেলোয়াড় হউন। আমরা যতই আধুনিকতা আর উন্নত চিন্তা-চেতনার কথা বলি না কেন আমরা এখনও উন্নত বিশ্বের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। যে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানের মতো দেশে সমাদৃত সেই এমএলএম এখানে প্রতারণার হাতিয়ার। জেলী ফিসের মতো অষ্টপদ দিয়ে আপনার নেটওয়ার্কিং এর জালে শুধু মানুষকে জড়ালেই হবে না, তার জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে কারণ তাকে প্রথম আশার বাণী আপনিই শুনিয়েছেন। আমি কিছু সত্য কথা বলি বলেই অনেক পরিবেশক, লিডারদের কাছে আমি অপছন্দের হয়তোবা কিন্তু এটাও সত্যি যে উত্তরসূরীদের সঠিক পথ দেখানোর দায়িত্বও আপনার-আমার। যে পথে আমি ভুল করেছি সে পথ যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। বিপদে পাঁ বাড়ানো মানুষগুলোকে বাচাঁনোর দায়িত্ব আমাদের। আমি আবারও বলছি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোন বিপদজনক পথ নয় তবে এটাকে এদেশে অনেক বেশি বিপদজনক করে ফেলা হয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে সারা বিশ্বে মাত্র ৩% পরিবেশক এই নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পেশায় স্বাবলম্বি হয়ে থাকেন যদি পরিসংখ্যান ভুল না হয় তবে আপনাকে সম্পূর্ণ প্রফেশনাল হয়ে এই ৩% এর ভেতর আসতে হবে অথবা এটিকে সেকেন্ডারী আয়ের পথ হিসেবে সিলেক্ট করতে হবে। প্রফেশনালিজমের কোন বিকল্প নেই, আপনি যে পেশায় নিজেই সফল হতে পারেননি সেখানে অন্যকে হোপ বা আশা দেখাবেন না এবং তা কখনও না। যদি দু’একটা কক্সবাজার বা বিদেশ ভ্রমণকে আপনি নিজের সফলতা করেন তবে আপনাকে অনেকেই ব্যবহার করবে কারণ তারা জানে কিভাবে আপনাকে দিয়ে ব্যবসা করিয়ে নেয়া যায়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং অনেক চমৎকার একটি ক্ষেত্র, এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ স্বপ্ন পূরনের জন্য একত্রিত হয় কিন্তু খুব কম মানুষই তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। ট্র্যাকে এসে দৌঁড়ানো শুরু করলেই আপনি শীর্ষে পৌঁছাতে পারবেন না। এর জন্য অধ্যবসায়, অনুশীলন আর পেশাগত মনোভাব বিশেষ প্রয়োজন। আমার মনে হয়, “সফলতা মানে অন্যের মাঝে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা।” আপনার কি মনে হয়? **Be Professional Be a Real Net worker**
  • আমার সাফল্য উপলব্ধি-১

  • এম রহমান আরিফ

     

    দুইটি বিষয় মানুষের সাফল্যের প্রধান অন্তরায়ঃ একটি হলো, অস্থিরতা অন্যটি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থতা।আপনি ১০০০ সফল মানুষের জীবনী অনুসরণ করে এবং কঠোর পরিশ্রম করেও ব্যর্থ হতে পারেন যদি উপরের দুটি আপনার মধ্যে থাকে। আমি এমন অনেক লিডার দেখেছি যারা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং জন্য এর সম্পদ কিন্তু তাদের অস্থিরতার জন্য তারা বারবার পেছনে পড়ে যায়। তাদের এই অস্থিরতা ও সিদ্ধান্তহীনতা আসে আস্থার অভাব থেকে। আস্থার সংকট দেখা দেয় অজ্ঞতা থেকে।
    আপনি যা জানেন তা অপরিপূর্ণ এবং যা জানেন না তাই গুরুত্বপূর্ণ এই মনোভাব আপনাকে অজ্ঞতা থেকে বাচাঁবে। সীমিত জ্ঞান নিয়ে সীমাহীন সাফল্যের সন্ধানে যারা থাকে তারা বোকার রাজ্যের সেনাপতি। এমন সেনাপতিদের জন্যই আজ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর দূরবস্থা। শুধু নেটওয়ার্ক মার্কেটিং-এ নয় যে কোন পেশায় ও জীবনের যে কোন সময়ে সাফল্য অর্জনের জন্য অাপনাকে প্রথমে সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারদর্শী হতে হবে। একটি ভুল সিদ্ধান্ত আপনার জীবনের অনেকখানি সময় নষ্ট করে দিবে, এমনকি আপনাকে ব্যর্থ মানুষে পরিণত করবে।
    এবার অস্থিরতা কাটিয়ে স্থির হওয়ার পর আপনি কমপক্ষে ১০জন মানুষের কাছে যাবেন যারা আপনার চেয়ে বয়সে বড় অথবা অভিজ্ঞ এবং অবশ্যই সুশিক্ষিত। আপনি প্রত্যেকের কাছে আপনার বিষয়টি শেয়ার করুন। যদি কমপক্ষে ৮জন আপনাকে এগিয়ে যেতে বলে তবে আপনার সিদ্ধান্তগ্রহণ সঠিক হবে। মনে রাখবেন পৃথিবীতে খুব কমসংখ্যক মানুষ অন্যের অমঙ্গল কামনা করেন তবে নিজের সুবিধার জন্য অন্যকে ব্যবহার করে এমন মানুষের সংখ্যা অসংখ্য। আরো একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আপনি যতই জ্ঞানী হোননা কেন অভিজ্ঞতার কাছে জ্ঞানের শক্তি খুব কমই টিকতে পারে। প্রত্যেকের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করুন।
    পৃথিবীতে মনিষীদের চেয়ে ধনী ব্যক্তির সংখ্যা বেশিই হবে, এরা যার যার ক্ষেত্রে সফল। আপনি যে পথে সফল হতে চান সেই পথেই আপনাকে হাঁটতে হবে।ভুল পথে পাঁ বাড়ালে বারবার নতুন করে শুরু করতে হবে। সঠিক পথ খুজেঁ নেয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত।
  • পেশা হিসেবে কেন মাল্টিলেভেল মার্কেটিং সফল হচ্ছে না

  • এম রহমান আরিফ

     

    পেশা হিসেবে কেন মাল্টিলেভেল মার্কেটিং সফল হচ্ছে না এ প্রশ্নটি অনেকেরই মনে আসে। এ প্রশ্নটির উত্তর আমাদের অনেকেরই জানা থাকলেও আমরা তা প্রকাশ করতে পারছি না। প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে অসংখ্যবার চেষ্টা করেও একটা স্থিতিশীল অবস্থায় নিজেকে প্রতিষ্টা করতে পারছে না, যা এমএলএম বিষয়টি পেশায় পরিণত হওয়ার প্রধান অন্তরায়। মুষ্টিমেয় কিছু নেটওয়ার্ককার যে সফলতার ডানা মেলে উড়ছে তা দিয়ে কখনো একটা সমষ্টিক অর্থনীতি বা দেশের চিত্র ফুঁটে উঠে না। এখনও পর্যন্ত সে ধরনের কোন সফল পরিসংখ্যান আমরা গড়ে তোলতে পারিনি যা দিয়ে নতুন প্রজম্মকে আকৃষ্ট করা যায়। যে ভয়াবহতা, মহামারী আর প্রতারণার অভিনব সব কৌশল দিয়ে এমএলএম পদ্ধতিকে সর্বনাশ করা হয়েছে তা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা অনেক কঠিন। কিছু বেকারের ঘুরপাক আর সুযোগ-সন্ধানীদের সেটআপ গেম এর জন্য যারা এই ঘাটে ভিড়ছে তারাও একটা সময় হতাশাগ্রস্থ হয়ে মাঠ ত্যাগ করছে। কক্সবাজার আর নেপালের হোটেল এলাকা গরম করে মাল্টিলেভেলের ভিত্তি মজবুত করা যাবে না। পিভি আর পয়েন্টের গেম বেশিদিন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। যারা যত দ্রুত সত্য উপলদ্ধি করতে পারছে তারা তত দ্রুত সরে পড়ার রাস্তা খুঁজে বেড়াচ্ছে।
    গত ১৩বছর পূর্বে আমরা যারা একটা নতুনত্বের আভাস পাচ্ছিলাম সে আমাদেরই অনেকে এখন দূরে সরে পর্যবেক্ষকের ভূমিকায়, যখন একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হবে তখন আবার ফিরে আসা হবে মনোভাব এমনই। কিন্তু বুঝে যাওয়া মানুষগুলো যত দূরে সরে থাকবে ততই এমএলএম পদ্ধতিতে অমঙ্গল লেগে থাকবে। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর এত রুপ পৃথিবীর কোথাও নেই আর এজন্যই বারবার আমরা পথ হারাচ্ছি আমরা নিজেরাই বুঝতে পারছি না আমরা কোন পথে হাঁটছি। এতকিছুর পরেও কিছু ছেলে-মেয়ে যখন মাল্টিলেভেল মার্কেটিং-কে আদর্শ মনে করছে তাহলে নির্দ্বিধায় বলতে হবে এখনও কিছু অবশিষ্ট আছে। আগামী বছরগুলোতে যদি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বিষয়টিকে পরবর্তী প্রজম্মের কাছে সম্মানিত ও সফল পেশা হিসেবে প্রমাণ করতে হয় তবে প্রথমে নিজেদের ভুলগুলো স্বীকার করে সঠিক পথ বেছে নিতে হবে। যদি সঠিক পথ বেছে নেয়ার সক্ষমতা না থাকে তবে তা অর্জন করতে হবে।নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর নামে গ্যাম্বলিং করা, বিনিয়োগ সংগ্রহ করা, পয়েন্ট বিক্রয় করা, ডলারের প্রত্যাশায় উচ্চমূল্যে পণ্য বিক্রয় করা, সেটআপ গেম খেলে পদবী অর্জন করা এ সবই আত্নঘাতী। এসব কারণেই আপনি যতই অর্জন করুন না কেন প্রতিনিয়ত আপনাকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা শুধু নিজেদের সময়টাকে ভালো করার চেষ্টা না করে ভবিষ্যত প্রজম্মের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে তবেই মাল্টিলেভেল মার্কেটিংকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথ আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।
  • দেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা মাথায় রেখে এমএলএম ব্যবসা করতে হবে

  • এম রহমান আরিফ

     

    দেশের একজন নাগরিক হিসেবে দেশ ও সমাজের প্রতি প্রতিটি মানুষের কিছু দায়বদ্ধতা থেকে যায়। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আপনাকে রাষ্ট্র ও সমাজের আইন, নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে এবং মা-বাবা, পরিবার-পরিজনের প্রতি আপনার কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজের প্রতি আমাদের কিছু করণীয় থাকে।
    সব মানুষ সমানভাবে সমাজ উন্নয়নে কাজ করতে পারে না, কিছু মানুষ উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং অন্যরা তা বাস্তবায়নে সহায়তা করে। এভাবেই সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের মাধ্যমে একটি জাতি উন্নত হয়। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতি অনুসরণের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা যেমন প্রতারণার আশ্রয় না নিয়ে উদ্যোগগ্রহণ করবে তেমনি পরিবেশক ও নেটওয়ার্কারগণ দেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা রেখে কাজ করতে হবে। প্রত্যেকই স্ব স্ব অবস্থান থেকে সমান দায়বদ্ধ।
    মাল্টিলেভেল মার্কেটিং সবার জন্য উম্মুক্ত বিধায় এখানে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের সমাগম হবে। অল্প শিক্ষিত এবং উচ্চ শিক্ষিত প্রতিটি মানুষের জন্যই এমএলএম উন্মুক্ত এজন্য এখানে উচ্চ শিক্ষিত ও তরুনদের পথ ধরে অনেকেই পথ চলে। এবং বলা যায় এটাই এমএলএম পদ্ধতির একটা চ্যালেঞ্জ - বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর একত্রিত করা।
    ধরুন আপনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা সমাপ্ত করে একটি এমএলএম কোম্পানীর পরিবেশক হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। সঙ্গতকারণেই আপনার আত্নীয়-স্বজন, প্রতিবেশীদের অনেকেই আপনার উপর আস্থা রাখবে এবং আপনার পথ ধরেই তারা হাঁটবে। আপনার পথটি ভুল হলে তারাও সে ভুলের স্বীকার হবে যার দায়িত্বটুকু আপনি কোনভাবে এড়িয়ে যেতে পারলেও সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে যেভাবে এমএলএম পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পেল, প্রতারক পদ্ধতি হিসেবে সাধারন মানুষের কাছে গণ্য হলো সে দায়ভার আপনি এড়িয়ে যেতে পারবেন না।
    একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি পিরামিড স্কীম বা অবৈধ অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠান বেছে নিলে আপনি ও আপনার পরিবার যেমন সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে তেমনি একজন পরিবেশকও সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে অপরাধী হবেন। আপনার ভুলের দায় কখনও সমাজ ও রাষ্ট্র নিবে না। আপনার উচ্চাভিলাষী চিন্তা-চেতনার নেতিবাচক ফলাফল কখনও সমাজ মেনে নিবে না। কারণ আপনি সমাজের জন্য কিছু করতে না পারা আপনার ব্যর্থতা নয় বরং আপনার উদ্যোগে সমাজে ক্ষতিগ্রস্থ হবে এটিই ব্যর্থতা।
    এসব বলার কারণ হলো, আপনি যখন এমএলএম নামধারী কোন ভুয়া প্রতিষ্টানে টাকা দিয়ে, পিন ক্রয় করে বা এডভান্স দিয়ে অথবা টাকার বিনিময়ে নাম রেজিষ্ট্রেশন করে, কার্ড ক্রয় করে প্রতারিত হবেন এবং আরো কিছু মানুষকে প্রতারণার স্বীকার বানাবেন তখন রাষ্ট্র আপনার সেই অর্থের দায়ভার কখনও নিবে না। বরং আপনাকে অপরাধী মনে করতে পারে। আপনার অজ্ঞতা ও মূর্খতার জন্য আপনাকেও আসামীর কাঁঠগড়ার দাঁড় করানোর ক্ষমতা রাষ্ট্র সংরক্ষণ করে।
    আবার এমনও কিছু বিষয় আছে, যেমন হাতের বালা,ঔষধ-পথ্য, ফুড সাপ্লিমেন্ট যা বিক্রয় করে আপনি ও আপনার টীমের ভরণ পোষণ করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যা বাজারমূল্য অপেক্ষা অনেক বেশি। অাপনি তাৎক্ষনিক না হলেও পরবর্তীতে ঠিক বুঝতে পারলেন ঐ বালা বা ঔষধের মূল্য স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তখন আপনিও নিজ ব্যবসার স্বার্থে নীরব থাকলেন। এটি কি প্রতারণা নয়? অবশ্যই কারণ প্রকৃত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে কমিশন দেয় না। মনে রাখা উচিত ব্যবসায় লাভ-লোকসান হবে কিন্তু অস্বাভাবিক লাভ কখনও ইতিবাচক নয় এবং ইসলামও তা সার্পোট করে না। সমাজকে সুন্দর ও রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করার জন্য এমএলএম একটি যুগান্তকারী পদ্ধতি। কিন্তু আমরা এখনও সে পথে হাঁটতে পারছি না। এজন্য আমাদের লোভ, অজ্ঞতা ও স্বার্থপরতাই দায়ী। একটা দেশ ও গোষ্ঠীর জন্য একজন প্রকৃত নেতাই যথেষ্ট। আমরা সে নেতার অপেক্ষায় যে দেশ ও সমাজের দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করবে।
  • পিরামিড স্কীম যেভাবে বুঝবেন-১

  • এম রহমান আরিফ

     

    প্রথমেই শুরু করা যাক আমাদের এমএলএম আইনের ব্যাখা দিয়েঃ
    মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ এর ১৫ ধারা অনুযায়ী-
    পিরামিড স্কীম সদৃশ বিক্রয় কার্যক্রম, ইত্যাদি নিষিদ্ধ।- এই আইন কার্যকর হইবার পর মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনার আওতায়-
    (ক) পিরামিড সদৃশ বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা যাইবে না; বা
    (খ) অবস্তুগত বা অলীক পণ্য এবং সময়ের ধারাবাহিকতা বা পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিপণনযোগ্য হইবে এইরুপ কোন পণ্য বা সেবা বিপণন করা যাইবে না।
    ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, “পিরামিড সদৃশ বিক্রয় কার্যক্রম” অর্থ এইরুপ বিপণন ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়া যাহাতে জ্যামিতিক হারে অধিক সংখ্যক ক্রেতা সংযুক্তির শর্তে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ বা কমিশন প্রাপ্তির বা প্রদানের প্রত্যাশায় বা প্রতিশ্রুতিতে অগ্রিম ফি প্রদানপূর্বক অংশগ্রহণ করিতে হয় এবং যাহার ফলশ্রুতিতে নিম্নোক্ত এক বা একাধিক অবস্থার সৃষ্টি হয়-
    (ক) উচ্চস্তরের বিক্রেতার লভ্যাংশ বা কমিশন প্রাপ্তি নিশ্চিত হইলেও নিম্নস্তরের ক্রেতা-পরিবেশকের লভ্যাংশ বা কমিশন প্রাপ্তি অনিশ্চিত থাকে;
    (খ) পণ্য বা সেবা প্রকৃতমূল্যে বিনিময় হয় না; বা
    (গ) পণ্য বা সেবার বাস্তব অস্তিত্ব থাকে না।
    আরেকটু ব্যাখ্যা করা যায় বিষয়গুলোকেঃ
    (১) পিরামিড স্কীম জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে যেখানে পণ্য বিনিময় ছাড়া অর্থের বিনিময়ে অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়। পণ্য বিক্রয়লব্ধ অর্থের চেয়ে নতুন ক্রেতার অর্ন্তভূক্তি অধিক লাভজনক। মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং বিষয়টিও জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে কিন্তু সেখানে প্রকৃতমূ্ল্যে পণ্যের বিনিময় নিশ্চিত হয়।
    (২) মাল্টিলেভেল মার্কেটিং মানেই যে নিম্নস্তরের পরিবেশকগণও কমিশন পাবেন সেটি সঠিক নয়- তিনি প্রাথমিক অবস্থায় মূল্যের বিনিময়ে সঠিক পণ্য পাবেন। পুণঃক্রয় বা বিক্রয়ের জন্য তিনি পরবর্তীতে কমিশন বা ডিসকাউন্ট পাবেন। যদি এমন মনে করা হয় প্রথম ক্রয়ের পরপরই পরিবেশক কমিশন লাভ শুরু করবেন তবে এটি অবশ্যই কোন এমএলএম পদ্ধতিতে পরে না এটি হটকারিতা। হয় তাকে পণ্য ক্রয় করতে হবে অথবা নতুন ক্রেতা স্পন্সর করিয়ে পণ্য ক্রয় করাতে হবে।
    (৩) আমরা অনেকেই শুনে থাকি - এমএলএম পণ্যের মূল্য একটু বেশি কারণ এখানে কমিশন প্রদানের বিষয় জড়িত। বিষয়টি মোটেও ঠিক নয় কারণ মাল্টিলেভেলের ধারণা জন্ম মধ্যস্থকারবারীর কমিয়ে আনা বা অবসানের মাধ্যমে। যদি কেহ পাইকারীর কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করে এমএলএম করতে চায় তবে তা অনেকটা অসম্ভব।
    (৪) পরিবেশকদের কাছে অবস্তুগত পণ্য বা অলীক পণ্য যেমন- কোম্পানির শেয়ার, সাটিফিকেট, মেম্বারশীপ পিন, হোটেল বা ভবনের শেয়ার ইত্যাদি অাইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।
    (৫) আবার সময়ের ধারাবাহিকতা বা পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিপণনযোগ্য পণ্য বলতে বোঝানো হয়েছে গাছ, আবাসন শিল্প, অবাস্তব শিল্পে বিনিয়োগ (যাহা এখনো শুরু হইনি)।
    ধন্যবাদ, পর্যায়ক্রমে আরো আলোচনা করা হবে, পাশাপাশি আপনাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন।
  • আজ ঐক্যের বড্ড প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে

  • এম রহমান আরিফ

     

    অপ্রিয় হলেও সত্য যে আমরা সাহস হারিয়ে ফেলছি, আমরা নিজেদের যোগ্যতা আর বিশ্বাসের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না। এর চেয়ে বড় বিষয় হলো আমরা অন্যদেরও বিশ্বাস করতে পারছিনা। অন্য কোম্পানীর পরিবেশকদের বিশ্বাস করার প্রশ্নই আসে না এমন মনোভাব যেন খুবই স্বাভাবিক। আমি বিভিন্ন কোম্পানীর পরিবেশকদের মাঝে প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব দেখতে পেয়েছি। এবং অবাক হয়ে যাই যারা এমএলএম-কে ‘স্বাধীন ব্যবসা’ বলে কোরাস গায় তারাই একটা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৃত্তের বাইরে যখন আসতে পারে না। এটা কি অপরাধ যে একজন পরিবেশক কয়েকটি এমএলএম প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আয়ের পথ বেছে নিয়েছে। যদি এমএলএম স্বাধীন ব্যবসা হয়ে থাকে তবে কেন একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির জন্য কেন কোরাস গাওয়া হচ্ছে। আমরা কেন এমন হীনমন্যতায় ভুগছি? কোথায় আমাদের পিছুটান। আপনি যদি মন্দ কিছু করেন তবে আপনার সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্র তৈরী হবে আর আপনার এমন সব গোপনীয়তা তৈরী হবে যা অন্যরা জানলে আপনার কিছু অবশেষ থাকবে না। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় অনেকটা শেয়ার বাজারের ন্যায় কিছু আইপিও ব্যবসায়ী থাকে যারা ইনভেস্ট প্লান, সমিতি অথবা ইন্টারনেট গেম এর জন্য অপেক্ষা করে কারণ তারা গেম মেকার। যারা মাল্টিলেভেল মার্কেটিংকে পেশা হিসেবে মেনে নিয়েছে তারা রেগুলার শেয়ার ইনভেস্টরের ন্যায় ও প্লে মেকার। যাই হোক আমরা আশা করবো ঐসব জুয়াড়িরা যেন আর নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় ঢুকতে না পারে।
    এদেশে যেমন রবীন্দ্রনাথ এসেছিল তেমনি এসেছিল নজরুল, জসীম উদ্দিন ও জীবনানন্দ দাশ প্রমূখ। সাহিত্যের প্রয়োজনে কবি ও সাহিত্যিকদের জন্ম। ঠিক তেমনি জন্ম নিবে অসংখ্য এমএলএম পন্ডিত, যেখানে প্রতিহিংসার সুযোগ নেই। কেউ যদি মনে করে এদেশে আর কোন এমএলএম বিশেষজ্ঞ বা এমএলএম পন্ডিত জন্ম নিবে না তবে সে বোকার স্বর্গে বাস করে। অসংখ্য মেধাবী ও প্রতিভাবান তরুণ-তরুণী মাল্টিলেভেল মার্কেটিংকে বেছে নিয়েছে নিজেদের পছন্দের পেশা হিসেবে তাই অসত্যের মাঝে মানুষকে ডুবিয়ে রাখার সুযোগ নেই। সামনে আরো ভালো কিছুর প্রত্যাশায় আমরা। তবে কিছু অশিক্ষিত ও লোভী মানুষের কারণে এখনও এমএলএম সঠিক পথ ধরতে পারেনি।
    যদি পেটের দায় না থাকতো তবে সারাদিন এমএলএম নিয়ে লিখতাম কেউ পড়ুক আর না পড়ুক নিজের মনের আনন্দ আর বিবেকের তাড়না থেকে লিখতাম। আমার সমসাময়িক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুদের মাঝে হয়তো আমিই দরিদ্রতম অবস্থায় আছি কিন্তু তবুও আমি সবার চেয়ে ধনী অন্তত এই একটা দিকে। একটা লেখা পড়েছি গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায়- একজন মাঝি ২২ বছর পাহাড় কেটেছিল গ্রামবাসীর জন্য রাস্তা তৈরী করতে, গ্রামবাসী রাস্তা পেয়েছিল কিন্তু দশরথ মাঝি শুধু সুনাম পেয়েছিল। সেই দশরথ মাঝির নামে সিনেমাও তৈরী হয়েছে। মানব কল্যাণে কিছু মানুষ এগিয়ে না এলে পৃথিবী এখনও অন্ধকারেই থাকতো।
    যাই হোক, আজ যারা মনে করে এমএলএম মানেই ধনী হওয়ার অন্যতম কৌশল তবে তা পুরোপুরি সত্য নয়। এমএলএম মানে একটা শক্তি। যাকে বলা হয় ঐক্যের শক্তি। এখনও যা আমাদের মাঝে অনুপস্থিত। কারণ আমরা সবাই বড় হতে চাই কিন্তু কাউকে বড় দেখতে পছন্দ করি না।আমরা অন্যদের কাছ থেকে অনেক কিছুই গোপন রাখতে পছন্দ করি কিন্তু আমরা যখন ব্যর্থ হই তখন কিছুই গোপন থাকে না।
    আমি এমনও উদ্যোক্তা দেখেছি যিনি এমএলএম ব্যবসার কিছুই বোঝে না কিন্তু সে তা স্বীকার করে না কারণ সে মনে করে সে অত্যন্ত গোপনীয় ব্যবসা করছে। আমি তরুণদের স্বাগত জানাই, গত ৩/৪দিন আগেও একজন তরুন উদ্যোক্তা আমার কাছে এসেছিল কিছু পরামর্শ নিতে। সে হয়তো আমার লেখাটা পড়বে, আমি খুব আনন্দ চিত্তে তাকে সহযোগিতা করবো বলেছি কারণ আমি এমএলএম ভালবাসি। আমরা যারা এমএলএম-কে ভালবাসি তাদের কাছে কোন কিছুই গোপনীয় থাকে না। এমএলএম উদার চিত্ত ছাড়া সম্ভব নয় তবে পিরামিড সম্ভব।
    সত্যিকার এমএলএম কর্মীদেরকে সত্যের পথ বেছে নিতে হবে, ঐক্য গড়তে হবে, যারা মিথ্যের মধ্যে আছে তাদের ফেরাতে হবে, না হয় উচ্ছেদ করতে হবে। আগামী ১/২ বছরের মধ্যে সঠিক এমএলএম প্লাটফর্ম গড়তে না পারলে সব নিশ্চিহ্ন হবে এতে কোন ভুল নেই। তাই আমাদের ঐক্যের বড্ড প্রয়োজন।
    (আমার লেখার সমালোচনা ও ভুলগুলো ধরিয়ে দিলে খুশি হবো।)
    ধন্যবাদ
  • ওয়ান-টু-ওয়ান পদ্ধতিতে এগিয়ে যেতে হবে নেটওয়ার্কারদের

  • এম রহমান আরিফ

     

    ডিরেক্ট সেলিং, মাল্টিলেভেল মার্কেটিং, নেটওয়ার্ক মার্কেটিং যে নামেই ডাকা হোক না কেন মূলত বিষয়বস্তু একটি। সবক’টি একটিরই শাখা তাহলো ডিরেক্ট সেলিং। এই ডিরেক্ট সেলিং এর স্বাদ অনেক প্রতিষ্ঠানই গ্রহণ করে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যেমন সবচেয়ে সহজ উদাহরণঃ ইন্সুরেন্স কোম্পানীগুলো। কাগজে কলমে তারা লেভেলও মেন্টেইন করে কিন্তু সেখানে যেহেতু সেমিনার, ক্লোজিং ও ফলোআপ নেই এজন্য উহা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং নহে। বস্তুতপক্ষে জীবনবীমার বিপণন কৌশল সর্ম্পূণভাবে ডিরেক্ট সেলিংকে সার্পোট করে। যাই হোক প্রথমে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। সত্যকে মেনে নেয়ার মতো মানসিকতার অভাবে বলেই আমরা এখনো পিছিয়ে আছি জাতি হিসেবে।
    যারা গুনের নামতা পড়ার জন্য এমএলএম করতে এসেছিলেন তাদের কাছে বিষয়টি পীড়াজনক হলেও যারা মাঠ-ঘাট প্রান্তর ঘুরে এমএলএম করেছেন তাদের কাছে কখনোই এমএলএম অপ্রিয় হবে না। এমন অনেক নেটওয়ার্কার আছেন যারা পেট ও পরিবারের তাগিদে এমএলএম থেকে কিছু দূরে সরে রুটি-রোজগারের অন্বেষনে নামলেও তাদের মন প্রান জুড়ে এখনো এমএলএম। আমার মতে বিষয়টি দুটি কারণে প্রথমতঃ এমএলএম অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখায় এবং দ্বিতীয়তঃ মানুষের অকৃত্রিম ভালবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করা যায়।
    কথায় আছে- এমএলএম মানুষকে ধনী বানায় না বরং ধনী হওয়ার পথ দেখায়। বলা বাহুল্য এসব ধনীরা আয়ের শুরুতেই আয়কর দিয়ে যাত্রা শুরু করে। যা রাষ্ট্র বিবেচনা করা উচিত। আমার বিশ্বাস নেটওয়ার্কারগণ প্রশিক্ষনের ধাপে ধাপে বিশুদ্ধ বিবেকের চর্চা করেন কারণ মানুষের বিশ্বাস, আন্তরিকতা আর একাগ্রতাই মানুষকে সফল করে তোলে। আপনি ডায়মন্ড হওয়ার পর যদি পালিয়ে বেড়াতে হয় তবে সেই সাফল্য আপনার জন্য যতটুকু তিক্ত তার চেয়েও বেশি আত্নঘাতি পুরো এমএলএম সিস্টেমের জন্য। আমরা তেমন ডায়মন্ড বা হীরের টুকরো হতে চাই না।
    আমি বিশ্বাস করি পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তি মানুষের ঐক্যের শক্তি। আপনার অধিকার আদায়ের জন্য সে ঐক্য আজ ভীষন দরকার, এর কোন বিকল্প নেই। আজ ডেসটিনিকে রক্ষার জন্য শুধু ডেসটিনির সদস্যরাই মানব বন্ধন করে। কিন্তু ফলাফল প্রায় শুণ্য কারণ রাষ্ট্রের কাছে ডেসটিনি একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু যদি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ও সংশোধনের এর জন্য মানববন্ধন করা হতো তবে অন্য সবক’টির ন্যায় ডেসটিনিও রক্ষা পেত। চারটির পরিবর্তে যদি চারশো’টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেত তবে এক বছরের মাথায় সরকার কখনোই এতগুলো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করে নিজেদের ব্যর্থতা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপাতো না। আমাদের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগীতায় ব্যস্ত যার প্রয়োজন নেই অন্তত এমএলএম পদ্ধতিতে। ৩২ কোটি জনসংখ্যার যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে ২০০টির বেশি কোম্পানী নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে সেখানে ১৬ কোটির বাংলাদেশে কি ১০০টি কোম্পানী অনায়াসে কাজ করতে পারে না। সঠিক এমএলএম চর্চা করলে ৫০০টি প্রতিষ্ঠানও এদেশে কাজ করতে পারবে।
    এখন আমাদের মধ্যে সেই ঐক্যের প্রয়োজন যা আমাদের মাল্টিলেভেল মার্কেটিং অধিকার নিশ্চিত করবে। ওয়ান-টু-ওয়ান ঐক্য। যা সবার জন্য মঙ্গলজনক তা অবশ্যই আমার জন্যও মঙ্গলজনক হবে এই বিশ্বাস নিয়ে এগোতে হবে। আপনার বন্ধু যদি অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করে তাকে সহযোগিতা করুন প্রয়োজনে তার প্রতিষ্ঠানে আপনিও কাজ করুন তবে নিশ্চয়ই সে আপনার প্রতিষ্ঠানেও কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করবে। এতে করে দুজনেরই সমৃদ্ধি হবে কারো কমবে না। আপনি যখন মনে করবেন অথবা আপনার মাথায় যখন ঢুকিয়ে দেয়া হবে আপনার প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কোন প্রতিষ্ঠান ভাল হতে পারে না তবে নিশ্চিত থাকুন আপনার ভরাডুরি হবেই। প্রতিযোগীতা হবে পণ্য নিয়ে কখনও মানুষ নিয়ে নয়।
    আমাদের কিছু সুক্ষ ভুলের জন্য আজ পুরো সিস্টেমটি বন্ধ হওয়ার পথে, হাইকোর্টের কোরামিন দিয়ে আপনি সিস্টেম টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। এর জন্য প্রয়োজন কঠিন শপথ ও জোরালো ঐক্য। এ সময় আমাদের প্রতিটি মূহুর্ত গুরুত্বপূর্ণ, প্রতিটি নেটওয়ার্কারকে জাগিয়ে তুলুন, প্রতিটি টীম, গ্রুপ বা প্রতিষ্ঠানের মাঝে ঐক্য গড়ে তুলুন। একজনের চিন্তা-চেতনা অন্যের সাথে শেয়ার করুন। ভাল বিষয়গুলোর জন্য প্রশংসা করুন আর ভুলগুলোর সমাধানের সুযোগ দিন।
    আমাদের ঐক্যের উদ্দেশ্য সংশোধিত আইন চাই, বিপণনের অধিকার ফিরে পেতে চাই।
    ধন্যবাদ
  • আমি এমএলএম সম্পর্কে জানি না, তাই এটি ভালো না

  • এম রহমান আরিফ

     

    প্রতিটি মানুষই প্রকৃতিগতভাবে স্বার্থপর, তবে স্বার্থপরতার পরিধি বা ব্যাপ্তির ওপর নির্ভর করে এটি কতটুকু অমঙ্গলজনক হতে পারে অন্যের জন্য। স্বার্থপর মানুষের কোন শ্রেণী বা গোত্র নেই কারণ এটি সকলের মাঝে বিদ্যমান। এর ব্যতিক্রম হলো সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের ভালবাসা ও স্নেহ। আমাদের মধ্যে পেশাগত কারণে অনেকে স্বার্থপর আচরণে অভ্যস্থ হয়ে পড়ি এবং স্রোতের অনুকূলে লিখতে পছন্দ করি যেমন- মাল্টিলেভেল মার্কেটিং নিয়ে সাংবাদিক ভাইয়েরা কখনও ইতিবাচক লিখেনি হয়তো লিখবেও না, আমার কখনও দৃষ্টিতে আসেনি। কোন একটি পত্রিকা এমএলএম বিষয়ে খবর ছাপিয়ে অনেক মানুষের দৃষ্টি আর্কষর্ণ করতে সক্ষম হয়েছে এজন্য প্রত্যেক পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে লেখা চাই এ সম্পর্কে জানুক আর নাই জানুক। কিছু গতানুগতিক ধারণা আছে যেমন- এমএলএম মানে প্রতারণার নবকৌশল, এমএলএম মানে চড়া মূল্যে সেক্স এর ঔষধ বিক্রয়, এমএলএম মানে মাল্টিপারপাস্ ব্যবসা ইত্যাদি। এ বদ্ধমূল ধারণা থেকে কিছু সাধারণ সমালোচক এবং পাশাপাশি কিছু সাংবাদিক মহোদয়দের বেরিয়ে আসতে হবে এবং আসা উচিত। শুধু সমালোচনা করে কোন বিষয়ের সুন্দর সমাধান করা যায় না, একটা উপায়, একটা সঠিক পথ নির্দেশনা না দিতে পারলে যেটুকু পথ আমরা এগিয়েছিলাম তাও পিছিয়ে যাবো।
    সত্যি বলতে কি আমরা নিজেরাও এখনও বিভ্রান্তির মধ্যে আছি কারণ আমরা কোন কিছু ভালভাবে না জেনে পাঁ বাড়াই আর যখন গেঁড়াকলে আটকা পড়ি তখনও নিজেদের শুধরে নেয়ার চেষ্টা করি না বরং ভুলটিকে সঠিক বলে চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। গত সপ্তাহে আমার পরিচিত একজন প্রেজেন্টার-ট্রেইনার আমাকে বললেন, ‘আমি নিশ্চিত এখানে যে পণ্য বিক্রয় হয় তার মান বেশ খারাপ তবুও কি করবো কাজতো করতেই হবে’। আমি বললাম, ‘ছেড়ে দিন’। উত্তরে বললেন, ‘খাব কি?’ বিষয়টা এমন যে কিছু একটা করে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে তাই আমরা এখনও এমএলএম করছি। সত্যিকার অর্থে যে জাতি এখনও মৌলিক অধিকার নিয়ে যুদ্ধ করছে সেখানে ভাল আর মন্দের বিভেদ অনেক কঠিন। আপনার ক্ষতি জেনেও অনেকে আপনাকে প্রলুদ্ধ করছে শুধু ক্ষুধা আর বেঁচে থাকার তাগিদে। এমএলএম অনেকগুলো বিষয়কে সার্পোট করে না যা আমরা জানি না। জানি না বলেই আমাদের সমাজে কিছু অকল্যাণকর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জন্ম নেয় যাদের নাম দেয়া হয় ‘এমএলএম কোম্পানী’। আমরা সমষ্টিক বিষয়ে ভাবতে কখনও প্রস্তুত নই। এজন্য আমাদের নিয়েও কেউ ভাবতে চায় না। এমন একজনও কি নেই মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বিষয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিবে, সংসদে দাঁড়িয়ে বলবে, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি বিপণন কৌশল, গড়পরতা এর বিরুদ্ধে না গিয়ে এটিকে কিভাবে বেকার সমস্যা সমাধানে ও ব্যবসায়িক সম্প্রসারণে কাজে লাগানো যায়, এ ব্যাপারে সরকারী পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করছি। আর যদি এটি সত্যই দেশের জন্য অকল্যাণকর হয়ে থাকে তবে এটিকে চিরতরে বন্ধের আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক। ধন্যবাদ” যেহেতু আমরা সবাই একটা বৃত্তের অর্ন্তগত আর বৃত্তের কেন্দ্রও একটি তাই কেন্দ্রের কাছেই সমাধান চাওয়া হোক। জ্ঞানী লোকেরা যখন এমএলএম পদ্ধতির দিকে আঙ্গুল তুলে মন্দ বলতে দ্বিধা করেন না তখন বুঝতে হবে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বিষয়টি প্রতিহিংসার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও এমএলএম নিয়ন্ত্রণ আইন করা হয়েছিল প্রায় তিন বছর প্রচেষ্টায়। মাত্র চারটা প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছিল লাইসেন্স, এক বছর পর বলা হলো কেউ সঠিকভাবে এমএলএম করছে না। কোনো লাইসেন্স নবায়ন করা হলো না। আমার প্রশ্ন হলো- যে আইন করা হলো সেটি দ্বারা কি কোম্পানীগুলো নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না, অথবা এমএলএম নিয়ন্ত্রণ আইনের দূর্বলতার সুযোগে এমএলএম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, অথবা কর্তৃপক্ষ এমএলএম নিয়ন্ত্রণ আইনের সহায়তায় কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নিতে পারছেনা। সব বিষয় ঝুলিয়ে দিয়ে সমাধান করা যায় না। যাই হোক সর্বশেষ এমনটি দাঁড়ায়, আমি যা খেতে পারবনা (ক্রয়ের সার্মথ্য নেই)তা স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়, আমি যা জানি না তা কারো জন্য ভালো নয়। আমরা এই পথে চলছি।
    “জয় হোক মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর- জয় হোক কিছু স্বপ্নচারী মানুষের”
    ধন্যবাদ

  • সফল হতে যাচ্ছে কি এমএলএম বন্ধের প্রচেষ্টা!

  • এম রহমান আরিফ

     

    প্রথম যখন দেশে টেলিভিশন আসা শুরু করলো তখন মাওলানারা এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠল। তারা বললো ‘টেলিভিশন দেখা হারাম’, ‘এটি ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য কাজ’, ‘যে ঘরে টেলিভিশন থাকবে সে ঘরে ফেরেশতা আসবে না’ ইত্যাদি। এরপর যখন টেলিভিশনে আযান শুরু হলো তখন মাওলানারা ধীরে ধীরে টেলিভিশনের পক্ষে যেতে লাগলো। এখন প্রতিদিনই কোন না কোন চ্যানেলে ইসলামী অনুষ্ঠান থাকে।নতুন নতুন ইসলামী চ্যানেল আসছে। দৃশ্যপট পাল্টে গেল শুধু সময়ের ব্যবধানে। এভাবেই মানুষের মনোভাব পরিবর্তন হয়।
    বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব আবিস্কারকে আমরা কিভাবে ব্যবহার করছি সেটিই মূখ্য বিষয়। আবিস্কার বা আবিস্কারকের কোন দোষ দেয়ার সুযোগ নেই। প্রথমে জানতে হবে, বুঝতে হবে তারপর আলোচনা বা সমালোচনা করতে হবে। সেকালের মাওলানাদের মতো একঘেঁয়ে সমালোচনা করে যারা মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতিকে খাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে তারা কখনও বুঝার চেষ্টা করেনি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কি। তারা শুধু মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে কিভাবে এমএলএম দ্বারা মানুষ প্রতারিত হয়। সারা বিশ্বে যে বিষয়টি সমাদৃত হয় তা এদেশে প্রতারণার হাতিয়ারে পরিনত হয়। ফিলিপ কটলার, বিল গেটস, বিল ক্লিনটন যখন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির বাহাবা দেয় সেই একই বিষয়ে আমাদের সাংবাদিক বোদ্ধারা মুখরোচক সমালোচনায় ব্যস্ত হয়। প্রচলিত কথায় আছে, ‘যা কিছু রটে তার কিছু না কিছু ঘটে’। কথাটি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রেও সত্য, অনেক অনাকাঙ্খিত প্রতারণার শিকার হয়েছে মানুষ কিছু অসৎ ও মুনাফালোভীদের কারণে। আর এসব ঘটনাকে চুম্বকের মতো গিলেছে পত্রিকাগুলো, মুনাফালোভীদের পেছনে না লেগে লেগেছে পুরো সিস্টেমের পেছনে। বিষয়টা অনেকটা টেলিভিশনের মতো। সমাধান কারো কাছে নেই, না সরকারের কাছে, না সাংবাদিকদের কাছে। অনেক চেষ্টায় এমএলএম আইন হলো কিন্তু বুঝার লোক নেই, আইন নিয়ে কাজ করার লোক নেই। আইনটা পড়লে মনে হবে প্রতারণা ঠেকানোর আইন, এমএলএম পরিশুদ্ধতার আইন নয়। বাস্তবিক অর্থে আইনের পরিপক্কতাই প্রতারণা বন্ধের অন্যতম উপায়। মাল্টিলেভেল বিষয়ে ‘অজ্ঞতা’ বিষয়টির জন্য খুবই বিপদজনক। আইনের ধারক-বাহকদের অজ্ঞতা আরো বিপদজনক। শুধু এমএলএম বন্ধ করে দেযার হুংকার দিলেই চলবে না শুদ্ধতার রাস্তা তৈরীর দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
    কোন কিছুই আমরা জাতি হিসেবে সহজে পাইনি, অনেক কষ্ট করে বা কাঁঠখড় পুঁড়িয়ে আমাদের সব অর্জন। এটা আমাদের দূর্ভাগ্য বলা যাবে না- এটাই আমাদের পথ। কে বেকার হয়েছে, কে পুঁজি হারিয়েছে তা বিবেচ্য বিষয় নয় কারণ আমরা নিজেরা যেমন কষ্ট করে অর্জন করেছি সেভাবে অন্যরাও কষ্ট করে অর্জন করবে। ‘কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’- এমনই মনোভাব আমাদের। একজন অপরাধ করেছে তাই জেলে কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাধানের পথ খুঁজে দেয়ার কোন মানুষ নেই। অর্থাৎ একজনের অপরাধে লক্ষ লক্ষ মানুষকে শাস্তি। এ বিষয়ে লেখার কেউ নেই, কিন্তু মাল্টিলেভেল নিয়ে মন্ত্রীর হুশিয়ারী প্রচ্ছদে ছাপানোর পত্রিকার অভাব নেই।
    ধন্যবাদ

  • কেউ এমএলএম পরিণতির দায়িত্ব নিতে চায় না।

  • এম রহমান আরিফ

     

    ভোগের সাথী হলেও আমরা কেউ বিপদের সাথী হই না, দায়িত্ব নিতে চাই না। এমএলএম ব্যবসার নামে লুটেপুটে খাওয়া মানুষের অভাব ছিল না। বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে প্রশাসনের মানুষ কিংবা সামরিক বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত ষ্টাফ সকলেরই পদচারণা ছিল এমএলএম-এর দরজায়। শিক্ষক থেকে শুরু করে ডাক্তার সকলের পাঁয়ের ধুলো পড়ে ধন্য হয়েছিল এমএলএম ব্যবসা। ধনী হওয়ার নেশায় সবাই যখন উম্মত্ত তখনও কেউ ভাবেনি এই মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ব্যবসার কি হবে। যারা আইনের জন্য গলা চেঁচিয়ে বলেছিল তাদেরও অনেকে এখন শ্রীঘরে। আমরা কেউ শিখতে চাই না সবাই শেখাতে চাই। অজ্ঞ লোকের চেয়েও বিশেষজ্ঞরা যে বিশেষ বিশেষ জায়গায় ধরা খেয়ে যাচ্ছে তা আর বলাই বাহুল্য। যারা আমাদের বিশ্বাস করে নিজের সব জ্ঞান, বুদ্ধি বিলিয়ে কাজ করে, যাদের ওপর অবলম্বন করে উদ্যোক্তারা বেঁচে থাকে তাদেরই খোঁজ নেয়ার কেউ নেই, কারো দায়িত্ব নেই। তুমি ইনভেস্ট করিয়েছো তুমি বুঝ, তুমি পরিবেশক বানিয়েছ তুমি সামলাও।এই হলো আমাদের এমএলএম শিক্ষা। যেখানে টাকা উড়ে সেখানে মহারথীদের ভিড় লেগে যায়, যখনই কোম্পানীর বিরুদ্ধে লেখালেখি শুরু তখনই মহারথীদের খুঁজে পাওয়া যায় না। যে আইন নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখেছি সে আইনও এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। এখন আর কাউকে হাটেও পাওয়া যায়না ঘাটেও পাওয়া যায়না। সুশিক্ষিত ছেলেগুলোর চেয়েও বিনয়ী ছেলেগুলো আছে বেশি বিপদে। কি হবে, কিভাবে হবে কিছুই তারা জানেনা কিন্তু প্রতিদিন মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের/পরিবেশকদের। একটা সময় স্বপ্ন দেখানো মানুষের অভাব ছিলনা, চা’য়ের দোকানেও স্বপ্ন ঘুরে বেড়াতো কিন্তু এখন সেই স্বপ্নগুলো অভিশপ্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবুও একটা স্বপ্ন এখনো জেগে আছে যে স্বপ্নটা তাই সবাই মিলে গড়তে হবে।

  • ডেসটিনি লাখো মানুষের সম্পদঃ ডেসটিনিকে মুক্ত করা হোক

  • এম রহমান আরিফ

     

    আজ ডেসটিনিকে ঘিরে হাজারো মানুষের হাহাকার। ঈদ সামনে রেখে লক্ষ লক্ষ মানুষ সরকার ও প্রশাসনের কাছে আর্জি রেখেই চলছে যাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আগামী ঈদ সুন্দরভাবে কাটাতে পারে। যদিও এই অবস্থায় বেশ কয়টি ঈদ পার হয়ে গিয়েছে। অন্তত একজন মুসলমান হিসেবে আমরা সবার সুন্দর ঈদ কামনা করি, আমাদের স্বজনদের, প্রতিবেশীদের এবং সমগ্র দেশবাসীর। আমরা লেখাটুকু বিশাল মরুভূমির বুকে এককৌটা জলের ন্যয় তবুও এ লেখার মাধ্যমে ডেসটিনির ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিটি পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি।
    অসংখ্য মানুষ শেষ সম্বলটুকুও সঁপে দিয়েছিলেন ভাল কিছুর প্রত্যাশায়, কিছু পাবার আশায়। কেউ ডেসটিনিতে দান বা সহায়তা প্রদান করেনি, ডেসটিনিতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্য ছিল একটু ভাল থাকা এবং নিজের কিছু স্বপ্ন পূরণ। এটি নতুন কিছু নয় যে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত বা নিন্মমধ্যবিত্ত মানুষগুলো বারবার প্রতারণার শিকার হয়- ঐচ্ছিক কিংবা অনৈচ্ছিক যেভাবেই যাই হোক না কেন। ‘যুবক’ নামক প্রতিষ্ঠানটি দ্বারা লক্ষ লক্ষ পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হলো কিন্তু এখনো কোন সুরাহা হয়নি ভবিষ্যতে হবে কিনা একমাত্র আল্লাহই জানেন। এভাবেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, এনজিও, অসাধু ব্যবসায়ী দ্বারা সাধারণ মানুষ বারবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে দোষী ব্যক্তি ধৃত হয়েছে এবং শাস্তিও ভোগ করছে কিন্তু বিনিয়োগকারীদের কোন সমাধান হয়নি আবার কোন কোন ক্ষেত্রে দোষী ব্যক্তির হদিশ পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রেও বিনিয়োগকারীদের সমস্যার সমাধান হয়নি। কোন সরকার করেনি কিংবা হয়তো করার উদ্যোগও নেয়নি। এ বিষয়গুলো সরকার সবসময় ক্ষীণ দৃষ্টিতে দেখে। কারণ বিষয়গুলো রাজনৈতিক নয়। আমরাও কিছুদিন পরপর পুরোনো বিষয়গুলো ভুলে গিয়ে আবার নতুন কোন প্রতারণার ফাঁদে পাঁ দিই। জাতি হিসেবে আমরা যতটা পরিশ্রমী এর চেয়ে বেশি আত্নবিশ্বাসী এজন্যই পুরোনো বিষয় ভুলে গিয়ে আবার নতুনভাবে শুরু করি।
    যাই হোক প্রসঙ্গটা ডেসটিনি বিষয়ে, ডেসটিনির বিষয়টি ছিল আমার কাছে অনেকটা রুপকথার গল্পের ন্যায়। প্রথমেই বলে নিচ্ছি আমার এই লেখাটুকু সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত যদি এ লেখার দরুণ কারো মনে আঘাত করে থাকি তবে পূর্বেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ২০০৩ সালে আমার এমএলএম যাত্রা শুরু এবং ২০০৪ সালেই এ থেকে বেশ খানিকটা দূরে সরে গিয়েছিলাম। কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত না থেকে এ বিষয়ে পড়াশুনা শুরু করি। আমাদের দেশে এ বিষয়ে জানার সুযোগ ছিলনা বলেই ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন কলাম ও বই পড়ে যতটুকু সম্ভব জানার চেষ্টা করেছি। অনেক প্রতিষ্ঠানেরই নীতি নির্ধারকদের সাথে একটা সুসম্পর্ক থাকলেও বিশাল মহীরুহ ডেসটিনির কারো সাথে তেমন কোন সম্পর্ক ছিল না। সত্যি বলতে কি আমি ব্যক্তিগতভাবে ডেসটিনির এই গোটা প্রক্রিয়া বা উত্তোরণকে পছন্দ করতাম না। ডেসটিনি ইউক্লিপটাস গাছের মত তরতর করে যতই বাড়তে লাগলো ততই সঙ্কা বাড়তে লাগলো। আমাদের দেশে অসংখ্য সাহসী মানুষের মধ্যে আমার মনে হয় রফিকুল আমীন ছিলেন অন্যতম সাহসী না হলে ৪/৫ হাজার কোটি টাকার ঝুঁকি কিভাবে নিলেন তিনি। আমার মনে হয় না তাদের আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এক তরফা বিচার হচ্ছে কারণ ডেসটিনি কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয় কিংবা এটি কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সমর্থনপুষ্টও নয়। অবাক হওয়ার কিছুই নেই যে তাদের বিরুদ্ধে ডেসটিনির পরিবেশকদের কোন অভিযোগ নেই। আমরা যেমন আমাদের শিক্ষকদের শেখানো পথে চলি ঠিক ডেসটিনির অসংখ্য পরিবেশক এখনো তার শেখানো পথেই চলছে। কিন্তু ডেসটিনির বিষয়টি এখন কোন প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা নয় এটি রাষ্টীয় সমস্যায় রুপ নিয়েছে কারণ দেশের বৃহত্তম দুটি আর্থিক কেলেংকারীর একটি হলো ডেসটিনিকে ঘিরে।
    সর্বশেষ গত ১১জুন ২০১৪ তারিখে পত্রিকায় চোখে পড়ল-‘ডেসটিনির এমডিসহ ৬৫জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ’। আমার সাথে ডেসটিনির কোন একজন ব্যাক্তিরও ব্যাক্তিগত দ্বন্ধ নেই যে কারো বিরুদ্ধে কিছু লিখবো। আমার এ লেখার মূল উদ্দেশ্য ‘ডেসটিনি’ নামক প্রতিষ্ঠানের পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীদের ঘিরে। এ প্রতিষ্ঠানটি কোন ব্যক্তির বা দলের নয়, এটি লক্ষ লক্ষ পরিবেশক, বিনিয়োগকারীর শ্রম, মেধা ও স্বপ্নে গড়া একটি প্রতিষ্ঠান। একেকজন বিনিয়োগকারীর জন্য এক বা একাধিক সেমিনার, ফলোআপ, ট্রেনিং এবং অতপর বিনিয়োগ। এভাবে রাত-দিন পরিশ্রম করে পরিবেশকরা অলি-গলি, বাড়ি, অফিসে ঘুরে বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। ঐসব পরিবেশকদের রক্তশ্রমে গড়া এই ডেসটিনির প্রতিটি ইট-পাঁথর। ডেসটিনির বর্তমান অবস্থার পর কারো ঘরে ঠাঁই নাই, কেউ কেউ আত্নীয়-স্বজনদের কাছে লজ্জিত অথবা প্রতিবেশীর কাছে। সরকারের/প্রশাসনের/ডেসটিনি পরিচালক কেউ কি বলতে পারবে ডেসটিনির গন্তব্য কোথায়? অনেকে ভেবেছিলেন এমএলএম আইনের পর ডেসটিনির একটা সম্ভাবনা রয়েছে, তাও হলো না। অবশেষে, পত্রিকায় শিরোনাম- ‘ডেসটিনির সম্পদ পুলিশ খাচ্ছে। আমাদের সরকারগুলোর ব্যথর্তার শেষ নেই, ডেসটিনির সম্পদ রক্ষার্থে ব্যর্থ হলে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। ডেসটিনির সম্পদ আত্নস্বাতকারী কিংবা অপব্যবহারকারী শাস্তি পেতেই পারে কারণ ডেসটিনির সম্পদ কারো উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত নয়, ব্যক্তিগত সম্পদ বলে কেউ দাবীও করতে পারে না। বরং আমানত ফেরত না দেওয়ার অপরাধে যে কেউ দন্ডিত হতে পারেন। আমরা ধরে নিই আইন বহির্ভূত কার্য্যক্রমের জন্য বেশ কিছু ব্যাক্তির শাস্তি হলো। কিন্তু ডেসটিনির সম্পদ রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের আমানত ফেরতের দায়িত্ব কি রাষ্ট্র নেবে? যেটুকু অবশিষ্ট সম্পদ রয়েছে তার সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সম্পূর্ণ না হলেও আংশিক ফেরত প্রদান সম্ভব। ডেসটিনির চল্লিশ লক্ষ (কথিত) পরিবেশক কি এ দেশের জনগণ নয়? যদি জনগণ হয়ে থাকে তবে প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ডেসটিনিকে আবার এমএলএ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুযোগ দিতে হবে কি না তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ন হলো ডেসটিনির সদস্যদের আর্থিক ক্ষতিপূরনের ব্যবস্থা করা। একইভাবে ইউনিপে টু, রেভনেক্সসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অবস্থা একই দশা। সরকার/প্রশাসন শক্তিশালী কমিটি গঠন করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের সূরাহা করতে পারে যা শুধু সরকারের সদিচ্ছার উপরই নির্ভর করে। কিন্তু তা না করলে এভাবেই পুলিশ, সন্ত্রাসী চক্র, রাজনৈতিক দুবৃত্তরাই এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ লুটে-পুটে খাবে।
    এতকিছুর পরেও ডেসটিনির লক্ষ লক্ষ পরিবেশক ও বিনিয়োগকারী শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কার্য্যক্রমে অংশ নেয় তারা কোন ধ্বংসাত্নক কর্মসূচী হাতে নেয়নি। তাদের হাতের ব্যানারে লেখা ‘আমরা ডেসটিনি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ নই’। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে কোন পরিবেশক বা বিনিয়োগকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে ডেসটিনির পরিচালকদের আটক করা হয়নি, দূর্নীতি ও সংগৃহীত আমানত/বিনিয়োগে অসামঞ্জস্যতার (যা মানি লন্ডারিং এর আওতায় পড়ে) জন্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। যদি আপনি আইনগতভাবে সাধারণ মানুষ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকাও সংগ্রহ করেন এবং তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারেন তবে কোন ধরনের আইনে আপনাকে আটকাতে পারবে না। শুধু অপরাধী প্রমাণের জন্য সচেষ্ট হলে হবে না, যারা অপকর্মের শিকার তাদের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।
    বিদ্যমান এমএলএম আইনের ফাঁক গলে যে আরো নতুন নতুন ডেসটিনি সৃষ্টি হবে না তার কতটুকু গ্যারান্টি রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে তারাও যে একই পথে হাঁটছে না সে ব্যাখ্যা কি আমাদের কাছে আছে? ডেসটিনির অনেক বিষয় সম্পর্কে আমরা এখনো সন্ধিহান। ডেসটিনির উত্থান ও ব্যাপ্তি জানতে পারলেই শুধু পরবর্তীতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এদেশে যতই আইন তৈরী হোক না কেন প্রশাসনিক দুর্বলতা থাকলে অসংখ্য ডেসটিনি তৈরী হবে এবং তা হবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিসরে। এমএলএম নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী প্রশাসনিক টীম না থাকলে এমএলএম নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাবে। যাই হোক, আমাদের এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে এ এমএলএম ব্যবসাকে সামাজিক ব্যবসায় রুপ দেয়ার জন্য। আসুন আমরা সে পথেই কাজ করি।

  • লাইসেন্স পরবর্তী বিক্রয় বৃদ্ধিতে লিডারদের করণীয়

  • এম রহমান আরিফ

     

    যে চারটি কোম্পানী প্রথমবারের মত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং লাইসেন্স পেয়েছে তম্মধ্যে দুটিই হলো বাইনারী এবং অন্য দুটি ইউনিলেভেল প্লান অনুসরণকারী। বাইনারী নিয়ে শঙ্কা থাকলেও প্রথমে বাইনারী প্রতিষ্ঠানগুলোই এগিয়ে গেল। ‘শঙ্কা’ শব্দটি উচ্চারণ করেছি এজন্য যে বাইনারী প্লান অনুসৃত প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিতর্কের জন্ম নিয়েছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও সরাসরি বাইনারী প্লান নিষিদ্ধ। যাই হোক আমরা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম আর এজন্যই বাইনারী নিয়েও আমাদের কাজ করতে হবে। ইউক্লিপ্টাস গাছ যেমন তরতর করে উপরের দিকে বাড়তে থাকে তেমনি বাইনারীও তরতর করে নিচের দিকে নামতে থাকে। আমার লেখা অনেকের অপছন্দ কারণ সোজাসাপ্টা লিখতে আমার পছন্দ। আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে অন্তত কয়েক’শ পরিবেশক ও লিডার ছিলেন এখন কয়েকদিন তেমন লেখালেখি চোখে পড়ছে না। সবাই একযোগে আমাকে আনফ্রেন্ড করলো কিনা বুঝতে পারছিনা। ২০০৯ সালের শেষের দিকে আমি একটা এমএলএম (বাইনারী প্লান)কোম্পানীতে যোগদান করি চাকুরীসূত্রে। এর পূর্বেও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করেছি কিন্তু কোনটিরই স্থায়ীত্ব ছিলনা। যখন যে প্রতিষ্ঠানই কাজ করেছি চেষ্টা করেছি সঠিক লাইন অনুসরণ করানোর। আমি এমএলএম পন্ডিত নই কিন্তু যা শিখেছি ও জেনেছি তা বাস্তবায়নের জন্য শেয়ার করতে প্রস্তুত ছিলাম। তবে আমার কোন গুরু ছিল না, যার হাত ধরে এমএলএম পথে এসেছিলাম সে যে কখন এমএলএম ছেড়ে দিয়েছে জানিই না। বাইনারীকে ঘিরে পদচারণা বেশি হলেও ব্যক্তিগতভাবে বাইনারীর পরামর্শ কেউ চাইলে তাকে নিষেধ করতাম, এখনো করি। আমি আমার বই ও বিভিন্ন লেখায় বহুবার লিখেছি বাইনারী খুব ঝুঁকিপূর্ণ, অনেকে তা মানতে নারাজ। এটা সত্য যে বাইনারীর হাত ধরেই এমএলএম জগতে এসেছি কিন্তু এই প্লানটিকে কখনোই দীর্ঘস্থায়ী মনে হয়নি। বাংলাদেশে যে কয়টি এমএলএম কেলেংকারী হয়েছে প্রায় সবক’টিই বাইনারী প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে। তবুও বাইনারী ছাড়ার সুযোগ নেই কারণ বাইনারীতেই জন্ম বেশির ভাগ পরিবেশক ও লিডারের। আমি একটা কথা প্রায় সময় বলে থাকি যে, বাইনারী প্লান দিয়ে পকেট মারার সুযোগ থাকলে ইউনিলেভেল দিয়ে চুরি করার সুযোগ রয়েছে। কথার পিছনের যুক্তি হলো, যে মোবাইল সেট দশ হাজার টাকায় বাজারে বিক্রয় করে বাইনারী প্লানে হয়তো তা এগার হাজার টাকা বিক্রয় হয় যদিও সেটা উচিত নয়। কিন্তু পয়েন্ট আর জয়েনিং বুঝে নিতে পারবেন। বাইনারীকেই বোকা বানানোর হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে অনেকে যা ছিল দুঃখজনক। অন্যদিকে ইউনিলেভেল প্লান অনুসরণকারী কিছু প্রতিষ্ঠান ১৯০টাকার এক কৌটা ট্যাবলেট বিক্রয় করে ৫২০টাকায় এবং ৯৫% পয়েন্ট আপনাকে দিয়ে দিলো আপনাকে। কিন্তু আগেই যে ২০০% মূল্য বাড়িয়ে রেখেছে তা নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই। আমি দুঃখিত সত্য বলার জন্য। চেষ্টা করেছিলাম আইন হওয়ার পূর্বে স্যারদের বুঝানোর লাভ হয়নি। আমাদের এমএলএম আইনে মূল্য সম্পর্কিত বিষয়গুলো আরো ইতিবাচক হতে হবে। সব প্রতিষ্ঠান কখনো মন্দ হতে পারে না যদি তাই হতো তবে এমএলএম আইনই হতো না। বাইনারী প্লানগুলো মৌচাকের মতো যখন মৌমাছি চলে যায় মধু নিয়েই যায় কিন্তু জমাতে অনেক কাঠখড় পোঁড়াতে হয়। বিষয়টিকে মাথায় রেখে বাইনারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একবার মিছিল ভাঙলে যেমন তা সংগঠিত করা কঠিন তেমনি একবার বাইনারী কোম্পানী পেছনে পড়লে তা সংঘঠিত করা কঠিন।
    দু’একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সারা দেশে এখনো এমএলএম পরিস্থিতি নাজুক। কিভাবে আবার ঐসব প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সাহস পায় বুঝে উঠতে পারিনা। আপনি যখনই সত্য বলবেন তখনই আপনার মা-বোন দিয়ে শুরু করবে। দূর্বল চিত্তের মানুষ এক জায়গা্য় সবল আর তা হলো মানুষের সাথে মন্দ ব্যবহার ও গালি দেয়া। মানসিকতার পরিবর্তন টাই পড়লেই বদলায় না, প্রয়োজন ইতিবাচক সুশিক্ষার।
    অন্যদিকে সরে যাচ্ছি মূল আলোচনা থেকে যা হোক মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ‘লাইসেন্স পরবর্তি বিক্রয় বৃদ্ধিতে লিডারদের করণীয়’। জয়েনিং বিষয়টি কিছু দিনের জন্য হলেও ভুলে যান কারণ ঐ পোঁকা (জয়েনিং)সব খেয়ে শেষ। নিজে ও সব ডাউনলাইন পরিবেশকদের নিয়ে প্যাকেজ পণ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয়ে নেমে পড়ুন। ১৫ সেন্টার নিয়ে অমুক জয়েন করেছে, ৩০ সেন্টার নিয়ে তমুক জয়েন করেছে এসব ভুলে যান। এসব পিরামিডের ভাষ্য। প্রতিটি পরিবার প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি প্যাকেজ বা সমমানের পণ্য ক্রয় করবে কিভাবে তা নিশ্চিত করুন। একজন বললো, আমার ডাউনে পঞ্চাশ হাজার লোক কিন্তু গত তিনমাস একটাকাও ইনকাম নাই আমার। আমি বলি, কিভাবে হবে? সোনার ডিম পাড়া হাঁসতো একবারেই খেয়ে ফেলেছো। বলি, ঐ মানুষগুলো কি বাজার করে না, কাপড় পড়ে না, বিয়ের নিমন্ত্রনে যায় না, ছয়মাসেও এন্ড্রয়েড মোবাইল কিনেনি। তাহলে তাদের দোষ দিব কি, দোষতো আপনার তাদের বাজার করা শিখাননি। তমুক কোম্পানীর পরিবেশকরা উন্নতমানের! দামী টুথপেস্ট কত সহজে বিক্রয় করে স্টার হয় আর আপনি প্রয়োজনীয় পণ্যও বিক্রয় করতে পারেন না। শুধু জোড়া মিলানো শিখেছেন বা শিখিয়েছেন। এবার প্যাকেজ ও পণ্য দিয়ে জোড়া মেলাতে হবে। এটাই এখন চ্যালেঞ্জ।
    আমার অনেক পরিচিত নেটওয়ার্কার, বন্ধু যারা মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ব্যবসায় কখনো সফল হয়েছেন আবার কখনো ব্যর্থ। কিন্তু বিগত কয়েক বছরের এমএলএম দৈন্য দশায় অনেক নেটওয়ার্ক ও লিডার দূরে সরে গিয়েছেন। আমি তাদের আহবান করছি এমএলএম পথে আসার এবং সঠিকভাবে ফেরার। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ব্যবসায় গোঁড়ামির স্থান নেই, এটি একটি চমৎকার মসৃণ পথ। যারা এমএলএম এর ক্ষতি করেছে তারা কখনো পূর্বের স্থান ফিরে পাবে না, যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে সঠিক পথে। আপনি পূর্বে ইউক্লিপ্টাস ছিলেন সেটি বিবেচ্য বিষয় নয় আপনাকেও নতুন শস্য বুনতে হবে হোক সে শস্য-বীজ নতুন বা পুরোনো।

  • পিরামিড স্কীম কি? কেন এটি অবৈধ?

  • এম রহমান আরিফ

     

    পিরামিড স্কীম এর প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো এর কোন আইন সিদ্ধ পণ্য বা সেবা থাকে না। যেসব পণ্য আনা হয় তা মূলত লোকদেখানো।

    দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো ক্রেতা-পরিবেশকগণ ততক্ষণ পর্যন্ত কোন আর্থিক সুবিধা (যেমন-বোনাস, কমিশন) পাননা যতক্ষন নতুন কোন ক্রেতা-পরিবেশক স্পন্সর করতে পারে না।

    পিরামিড স্কীম আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনাকে সার্পোট করে।

    পিরামিড স্কীমে সাধারনত টপ লেভেলে যারা অবস্থান করে তারাই প্রচুর অর্থ লাভ করে অন্যদিকে ডাইনলাইনে যারা তারা সব কিছুই পাননা।

    পিরাডিম স্কীম অনুসরনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আকর্ষনীয়, দামী ও অযাচিত পণ্য বাছাই করে নেয় সাধারন ক্রেতা-পরিবেশকদের তেমন প্রয়োজন হয় না তবুও ক্রয় করতে হয়।

    পিরামিড স্কীমকে মূলত ‘জুয়া’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন অনেকে কারণ এখানে স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদে আয় করা যায় যেখানে একটি শ্রেণী বিনিয়োগ কিছুই ফেরত পায় না।

    যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন পিরামিড স্কীম ও সঠিক এমএলএম প্রতিষ্ঠানসমূহ চিহ্নিত করার জন্য যেসব গাইডলাইন প্রদান করেছে, যেমনঃ ১) সর্বশেষ ক্রেতা বা ভোক্তার নিকট সর্বাধিক পণ্য বা সেবা বিক্রয় করতে হবে। ২) কমিশন প্রদান করা হয় শুধু পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের ওপর, নতুন ক্রেতা অর্ন্তভূক্তির জন্য নহে। ৩) বাইব্যাক পলিসি কার্যকর করা।

    বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ব্যতীত যত্রতত্র জন্ম নেয়া সবগুলো প্রতিষ্ঠানই পিরামিডের আর্কষনীয় উদাহরণ। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো যেসব উদ্যোক্তাগণ এমএলএম প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তারাই পিরামিড স্কীম বুঝেন না।

    পিরামিড স্কীমের উত্থানই মূলত এদেশের এমএলএম ধ্বংসের জন্য দায়ী।

  • এখনো সময় হয়নি তর্ক করার

  • এম রহমান আরিফ

     

    ১৯৯৯/২০০০ সাল থেকে ২০১২ সময়টুকু যেন মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর জন্য সবচেয়ে লজ্জাজনক সময়কাল। এখনো আমরা দূরে সরে যাইনি, অপেক্ষায় আছি একটি ভাল এমএলএম আইনের একটি চমৎকার এমএলএম শিল্পের জন্য। আপনাকে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ব্যবসায় স্বাগতম এজন্য যে এ শিল্পের প্রসারে সচেতন মানুষের আগমন খুবই প্রয়োজন। কতিপয় ছদ্মবেশী লোক খুব কৌশলে এ ব্যবসার আপাদমস্তক সর্বনাশ করে নিজেদের আখের গোছিয়েছে। ঐ লোকগুলোই বাংলাদেশে এমএলএম আইনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক এমএলএম ব্যবসায় আগ্রহীদের স্বাগতম, যারা পরের কল্যাণকামী, যারা সত্যকে আকঁড়ে ধরতে পছন্দ করে তাদের এ ব্যবসায় স্বাগতম।

    আমি বাসে চড়ে যাওয়ার সময় কিংবা কোন লোকালয়ে মানুষের কাছ থেকে অনেক শুনেছি 'ধোঁকাবাজি ব্যবসা' 'বাটপারি ব্যবসা' কিংবা 'প্রতারক চক্র' ইত্যাদি। যারা মাল্টিলেভেল ব্যবসা সম্পর্কে তারা অবশ্যই একে মন্দ বলবেন না কিন্তু যারা একে ব্যবহার করেছেন অথবা কারো দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন তারা অবশ্যই এমনই বলে থাকেন।এ পদ্ধতিকে দোষ দেয়ার কিছু নেই, দোষী তারা যারা জেনেও আপনাকে সময়মত সচেতন করেনি।

    এমএলএম আইন সংক্রান্ত একটা মিটিং-এ মন্ত্রনালয়ের সচিব সাহেব আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন 'আরিফ, মাল্টিলেভেল ব্যবসাকে একেবারে নিষিদ্ধ করে দিলে কি ভাল হয়না, এতোসব ঝামেলার প্রয়োজন কি'? আমি বললাম, 'স্যার, যে বিষয়টা সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে এবং সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে সে বিষয়টিকে এড়িয়ে গেলে আমরা কি পিছিয়ে পড়বনা, বরং একটা পরিপূর্ণ আইন করে এটাকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় কিভাবে সে চেষ্টা আমরা করি না কেন'।

    আমরা ঘটে যাওয়া ঘটনা দ্রুত ভুলে যাই- সেটা যত খারাপ বা ভাল হোক না কেন, মাল্টিলেভেল মার্কেটিংকে যারা পুঁজি করে ধনকুবের হয়েছে আর লক্ষ লক্ষ সাধারন মানুষ নিজের তিল তিল করে গড়ে তোলা সঞ্চয় ও শেষ সম্বলটুকু হারিয়েছে তাদের আমরা ভুলে গিয়েছি, সেই সময়টাও ভুলতে বসেছি হয়তো শীঘ্রই ভুলে যাব। যখন আমরা একটি পরিপূর্ণ আইন পাব, একটি এমএলএম পরিবেশ পাব তখন সর্বস্ব হারানো মানুষগুলোর কথা পূর্বে স্মরণ করবো। এখন আমরা কারো সাথে তর্কে যাবনা কারণ এখনো সময় হয়নি তর্ক করার।

  • মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম)ব্যবসায় আপনাকে স্বাগতম

  • এম রহমান আরিফ

     

    এদেশের মানুষ অর্থাআমরা কতটা সরল ও আবেগপ্রবণ তা অনুধাবন করার অন্যতম স্থান নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা। কিছু মানুষ আবেগের বশে আর কিছু মানুষ লোভের বশবতি হয়ে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতির দোহাই দিয়ে প্রতারণার অন্যতম ক্ষেত্র তৈরী করেছে পুরো বিষয়টিকে। ভাল-মন্দ বিবেচনা করার সামর্থ আপনার যতই থাকুক না কেন একটি অজানা বিষয় বুঝার বা এ নিয়ে মন্তব্য করার মতো পরিপক্কতা আপনার নাও থাকতে পারে। দারিদ্রতার হাত থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে সাধারন মানুষ ছুটে যায় অনিশ্চিত শেয়ার বাজারে কিংবা প্রতারণার নতুন ক্ষেত্র এমএলএম (বিনিয়োগ) ব্যবসায়। দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত এ জাতির ভাগ্য ফেরানোর হাতিয়ার কখনোই এমএলএম বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং হতে পারেনা যদিনা এর প্রয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের অধীনে থাকে। তেতুঁলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত এমন কোন গৃহ মনে হয় বাদ যায়নি যেখানে আমাদের এ অপরিপক্ক নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর ছায়া পড়েনি কিন্তু এর ইতিবাচক থেকে নেতিবাচক প্রভাবই অনেক বেশি। এমএলএম মানেই কাবাজী, প্রতারণা, মানুষ ঢুকানোর ব্যবসা ইত্যাদি শুনতে শুনতে আমাদের মতো অতি সাধারন মানুষগুলো যারা একটা সঠিক এমএলএম পরিবেশ গড়ার প্রত্যাশায় ছিলাম তারা রীতিমত হতাশাগ্রস্থ এবং যারা ভূয়া এমএলএম বিনিয়োগ করেছে তারা সর্বশান্ত। ১৯৯৯/২০০০ সাল থেকে ২০১২ সময়টুকু যেন মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর জন্য সবচেয়ে লজ্জাজনক সময়কাল। এখনো আমরা দূরে সরে যাইনি, অপেক্ষায় আছি একটি ভাল এমএলএম আইনের একটি চমৎকার এমএলএম শিল্পের জন্য। আপনাকে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ব্যবসায় স্বাগতম এজন্য যে এ শিল্পের প্রসারে সচেতন মানুষের আগমন খুবই প্রয়োজন। কতিপয় ছদ্মবেশী লোক খুব কৌশলে এ ব্যবসার আপাদমস্তক সর্বনাশ করে নিজেদের আখের গোছিয়েছে। ঐ লোকগুলোই বাংলাদেশে এমএলএম আইনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক এমএলএম ব্যবসায় আগ্রহীদের স্বাগতম, যারা পরের কল্যাণকামী, যারা সত্যকে আকঁড়ে ধরতে পছন্দ করে তাদের এ ব্যবসায় স্বাগতম।
  • আমরা এমএলএম এর পথ ছাড়বো না

  • এম রহমান আরিফ

     

    কি পেয়েছেন আপনি এমএলএম থেকে? টাকা, সম্মান, বন্ধুত্ব, প্রতিপত্তি । নাকি হারিয়েছেন? অর্থ, সম্মান, মর্যাদা। যদি অর্থ হারিয়ে থাকেন তবে কোন প্রতারকের পাল্লায় পড়ে এবং না বুঝে অথবা লোভের বশবতি হয়ে । দ্বিগুণ/তিনগুনের পাল্লায় পড়ে মূলধন হারিয়ে এমএলএম এর পিন্ডি উদ্ধার করছে অনেকে। শেয়ার মার্কেটে না বুঝে যেমন বিনিয়োগ করে অনেকে সর্বসান্ত হয়েছেন তেমনি প্রতারক চক্রের এমএলএম কারিশমায় পড়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হারিয়েছেন অনেকে। এর জন্য মানুষের নির্বুদ্ধিতা আর নেটওয়ার্কার নামধারী জোচ্চোররা দায়ী। ১০% স্পট আর ১০% ম্যাচিং এর জন্য নিজের আত্নীয় স্বজন, বন্ধু -বান্ধব ও প্রতিবেশীদের ডেকে নিয়ে হাতে হারিকেল ধরিয়ে দিয়েছেন। বিবেক, নীতি ও নৈতিকতা কথা ভূলে গিয়ে আমরা মানুষকে জোকের মতো চুষে খাওয়ার প্রতিযোগীতায় নেমেছি। এরপর এলো ইন্টারনেট ভিত্তিক আয়ের আরেক প্রতারণা। আমাকে একজন বললেন ৭০০ টাকা দিয়ে মেম্বার হলে প্রতি সপ্তাহে টাকা আসতে থাকে আর আপনার কাজ বসে বসে ক্লিক করা। ধো ঁকাবাজদের ধোঁকাবাজি মানুষ সহজে বুঝতে পারে না। যারা ৭০০ টাকা ভাগাভাগি করে এসব ক্লিক ব্যবসায় নেমেছে তারাই পূর্ববর্তি দ্বিগুণ চক্রের হোতা কিংবা শীর্ষস্থানীয় লিডার। ঘুরেফিরে আমরা প্রতারক চক্রকেই পাব যারা সবসময়ই কোন না কোন প্রতারণার সাথে জড়িত থাকে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো- লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত যুবক -যুবতী প্রতারক চক্রের সাথে হাত মেলায় এবং তাদের গুণকীর্তণ করে স্পট আর ম্যাচিং এর আশায়। আমরা যেমন অর্থব প্রশাসনের হাতে জিম্মি তেমনই কিছু শিক্ষিত বেকার যুবকের হাতে জিম্মি যারা অর্থের লোভে গোটা জাতির কাছে এমএলএম পদ্ধতিকে ঘৃণ্য বিষয়ে পরিণত করেছে। আমাদের সচেতনতা আর নির্বুদ্ধিতার জন্যই প্রতারক চক্র বারবার সুযোগ পাচ্ছে। আমরা কি কখনও বুঝার চেষ্টা করছি যে, আমরা কাকে ঠকাচ্ছি আর কাকে ধনী বানাচ্ছি? নিজেদের কিছু লাভের জন্য আরো দশজনকে সর্বনাশের দিকে ঠেলে দেয়ার নামই কি অপরাধ নয়? অপরাধী অবশ্যই নিজে জানে সে কি অপরাধ সংগঠিত করেছে। যদি সে নিজ অপরাধ শুধরানোর সুযোগ চায় তবে প্রথমে অপরাধ স্বীকার করতে হয়, নির্বোধদের নিয়ে বড় বড় কর্মশালা আর সেমিনার আয়োজন করলেই অপরাধ ঢাকা যাবে না। ক্ষমার অনেক পথ যে কোনটি বেছে নিতে হবে। যে বিষয়টি নিয়ে মূলত লিখছিলাম, আমি এখনো এমএলএম এর পথ ছাড়িনি… শেষ পর্যন্ত ছাড়তে পারবনা। আমি কখনো হার মানিনি, কখনও মানবো না। ২০০৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দেশের বেশ কিছু জেলায় প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা আছে আমার যে অভিজ্ঞতার সম্পূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে মানুষের ভালবাসা। এখনো সেই মানুষগুলোর চোখ আর অমলিন হাসি আমার স্মৃতিতে ভাসে। আমার মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে মহৎ কাজ হলো একটি মানুষকে জাগিয়ে তোলা, একটি হতাশাগ্রস্থ মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখানো। মানুষের ভালবাসার কাছে পৃথিবীর সবকিছু অর্থহীন, যেমন অর্থহীন টাকা, ইনসেনটিভ আর প্রাডো গাড়ী। যারা শুধু অর্থের জন্য, নিজের সুখের জন্য অন্যের সম্মান, সামর্থ্য নষ্ট করে তাদের ক্ষমা নেই। সত্য এমএলএম আপনাকে তিনটি জিনিস দিবে- সম্মান, ভালবাসা ও প্রতিপত্তি। আর কি চাই মানুষের জীবনে। কিন্তু মিথ্যে এমএলএম-ও আপনাকে তিনটি জিনিস দিবে – অসম্মান, ঘৃনা ও অঢেল অর্থ। সবকিছুর আগে মানুষকে অনুভব করুন, মানুষের কাছাকছি চলে যান। আপনি জানেন না গতরাতেও আপনার নিকটতম প্রতিবেশী ‘না খেয়ে’ রাত্রি যাপন করেছে। আজ জানার পর যদি কষ্ট/লজ্জায় আপনার চোখের কোণে জল আসে তবেই আপনি মানুষ। এমএলএম এমনই কিছু শিক্ষা দেয়। আমাদের সবাইকে মানুষ হতে হবে।
  • এমএলএম এর হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনুন

  • এম রহমান আরিফ

     

    আমাদের চারপাশে এমন অসংখ্য মানুষ রয়েছে যারা চায়ের দোকানে বসে দেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সমালোচনার ঝড় তুলে। স্কুলের গন্ডি না পেরুলেও সারাবিশ্বের নিয়মিত খবর তাদের নখে দর্পণে। শুধু তাই নয় এমন অসংখ্য মানুষের দেখা মিলবে যারা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত এবং কোন সরকারী কিংবা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কিন্তু তাদের সাথে আলোচনায় আপনার সন্দেহ জাগবে তাদের শিক্ষার মান নিয়ে, পড়ে বা বুঝে নয় শুনেই যারা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। এমএলএম মানে একজন ডানে আর একজন বামে ব্যস এটুকুই যথেষ্ট আসর জমানোর জন্য। এমন সব উদাহরণ আর পরিসংখ্যান আপনার সামনে দাঁড় করাবে যা কিনা আপনি আট-দশ বছর এ লাইনে গবেষণা করেও খুঁজে পাবেন না। আজ এমএলএম জগতের মানুষগুলো যারা কিনা এটিকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছিল তারা এমন এক সময় অতিবাহিত করছে যা বলা বাহুল্য।পত্রিকার পাতা উল্টোতেই দেখতে পাবেন যত ধরনের প্রতারণা আছে তার পিছনে এমএলএম গন্ধ খুঁজে বেড়ায় প্রত্যেকে। অনিয়ন্ত্রিত, অবহেলিত আর সুযোগ সন্ধানীদের কারণে এমএলএম এর এই দশা তা কেউ বিশ্বাস করছে না যেন ‘জন্মই তার আজন্ম পাপ’। যাই হোক একজন মানুষ পরিচয় লাভ করে তার পেশার মাধ্যমে যেমন- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল কিংবা ব্যাংকার ইত্যাদি। তেমনি কিছু স্বল্প ও উচ্চ শিক্ষিত মানুষের স্বপ্ন ছিল এমএলএম-কে ঘিরে এর মধ্যে কারো ধারণা ছিল সঠিক কারো বা ভুল।আমরা হয়তো সঠিকের দিকেই এগোচ্ছিলাম ধীর লয়ে কারণ আমরা কোন কিছুই সহজে অর্জন করতে পারিনি। একটা ডিনামাইট যে কতটা ধ্বংসাত্নক তা আমরা জানি কিন্তু এও জানি যে সভ্যতার সংস্কারে এর অবদান অনস্বীকার্য। এমএলএম এর ধ্বংসাত্নক দিকগুলোই আমাদের আঘাত হানল কারণ আমরা কখনই প্রস্তুত ছিলাম না। আমরা এখনো প্রয়োজন মনে করিনা একটা আইনের। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর ধ্বংসযজ্ঞ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে যারা এপথে শান্তি খুঁজতে চেয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে রক্তচোষা প্রাণীগুলো চুষে ফেলল, তুলে নিয়ে গেল হাজার হাজার কোটি টাকা ঠিক শেয়ার বাজারের ন্যায় আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ন্যায় নেটওর্য়াকাররা নতুন খবরের অপেক্ষায় চেয়ে রইল।যারা মনে করে বাংলাদেশে এমএলএম পার্ট শেষ তবে তারা ভুল করবে কারণ এখনো শুরুই হয়নি। নেটওয়ার্কারদের এখন প্রধান ও অন্যতম কাজ হলো হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনা। ইনভেস্টমেন্ট, ক্লিক আর শেয়ার এর মতো এমএলএম নামধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সুযোগ সন্ধানী উদ্যোক্তা,লিডারদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে বা এড়িয়ে যেতে হবে।সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এদেশে এমএলএম আইন ও নীতিমালা সবই হবে।
  • আসুন আমরা একসাথে সঠিক এমএলএম করি।

  • এম রহমান আরিফ

     

    বর্তমান পরিস্থিতিতে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর সাথে জড়িত সকল কোম্পানী, সংস্থা ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের সকল পরিবেশক, গ্রুপ লিডার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, এমএলএম লেখক, প্রতিনিধিসহ সকল শুভাকাঙ্খিগণ একসাথে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর ব্যপক প্রসার ও প্রচারণার জন্য কাজ করতে হবে। কিছু সুবিধাবাদী, স্বার্থান্বেষী, মুনাফাখোর ব্যবসায়ীর হাতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলো এমএলএম পদ্ধতি, পত্রিকাগুলো উঠে-পরে লাগল্ এর পেছনে, ভাল-মন্দের বাছ-বিচার না করে শুধু নেগেটিভ বিষয়গুলোই তুলে ধরল সাধারন মানুষের সামনে। সব ধরণের এমএলএম প্রতিষ্ঠানই ধো ঁকাবাজী করে ব্যবসা করছে- এমন খবরকে প্রাধান্য দিয়ে পত্রিকাগুলো এমএলএম বিষয়টিকে মুখরোচক করে তুললেন। প্রতিষ্ঠান যেমনই হোক প্রতারণা করলেই তা এমএলএম কোম্পানী হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পরে হলেও এমএলএম আইন হওয়ায় অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাবে তা হলো এমএলএম নামে প্রতারণার তেমন সুযোগ থাকবে না। যদি কেউ প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে নামে তবে তা সরকারের কাছে নথিপত্র জমা দিয়ে করতে হবে অর্থাৎ লাইসেন্স নিয়ে করতে হবে। হুজুগের বশবতী হয়ে যারা এমএলএম প্রতিষ্ঠান করেছে তারাই মূলত এমএলএম ব্যবসার ক্ষতিটুকু করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে অধিকাংশ ব্যক্তিকে এমএলএম কোম্পানী না করার পরামর্শ দিয়েছি কারণ তারা অনেকেই এমএলএম পদ্ধতির বিষয়ে জানতেন না। সর্বশেষ আমি আমার এক বন্ধুকে ‘ডিসকাউন্ট এজেন্ট’ নামে কোম্পানী না করার পরামর্শ দিয়েছিলাম কিন্তু তবু সে করল এবং যতটা মনে পড়ে পাঁচ মাস পর এই বছরই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিল। ডাবল-রিডাবলের খেলা কিংবা অনলাইন সার্ভের দিন হয়তো শেষ, কিন্তু যারা ক্ষতিগ্রস্থ হলো তাদের সাথে কেউ নেই সরকারও নেই, কোম্পানীও নেই। এমএলএম প্রতিষ্ঠান যেমনই হোক না কেন প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে সবাই বয়কট করতে হবে। আমরা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করি তা যখনই প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত হবে তখনই তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, একই ভুল দু’বার করা যাবে না। দু’চারটি প্রতিষ্ঠানের জন্যে এমএলএম প্লাটফর্মটিকে নষ্ট করা যাবে না। যে প্রতিষ্ঠানটিকে আপনি প্রাণের চেয়ে বেশি ভালবাসেন তা দুষিত হলে আপনিও দুষিত হবেন। আমি নির্দিষ্ট কোন কোম্পানীকে কখনও দোষারোপ করিনি এখনও করছি না কিন্তু ঐসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলছি সেসব প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ন মিথ্যের ওপর ভিত্তি নিয়ে গড়ে উঠা। আমি কখনোই একজন মানুষের সামর্থ্যকে খাট করে দেখি না। কিন্তু আমরা কেউ আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিতে পারি না বলেই অন্যের পরামর্শ যদি আমাদের চিন্তা শক্তিকে অতিক্রম করে তখন আমরা সহজে আঘাত করি। আমরা নিজেদেরকে পরিপূর্ণ মনে করছি আর এজন্যই নিজেদের অজ্ঞাত বিষয়গুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। একজন ক্রেতা যেমন একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তেমনি একজন পরিবেশক যেকোন এমএলএম কোম্পানীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মূলত পরিবেশকরাই একটি এমএলএম প্রতিষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠিত করতে সবচেয়ে ভূমিকা পালন করে। ভাল কিছুর জন্য দেশের সবক’টি এমএলএম প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে অর্থাৎ প্রত্যেকে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে ভাল-মন্দ, সুযোগ-সুবিধাসমূহ শেয়ার করা, একে অন্যের বিপদে-আপদে সহযোগিতা করা ইত্যাদি। এমন অনেক সুযোগ সন্ধানী পাবেন যারা ১০ মাসে দ্বিগুনের লোভে এসেছিল এমএলএম করতে এখন তারাই বিপক্ষে কথা বলছে। দুষ্ট লোক যাতে এমএলএম ব্যবসায় বিচরণ করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এখনি প্রকৃত সময় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার। যারা প্রতারিত হয়েছেন কিন্তু এখনও বিশ্বাস রাখেন এমএলএম এর ওপর তাদের আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। বেছে নিতে হবে ভাল প্রতিষ্ঠান আর একসাথে কাজে এগিয়ে যেতে হবে। আগামী ২বছর হবে এদেশের নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর জন্য এসিড টেস্ট, কারা সফল হবে আর কারা ব্যর্থ হবে এর মধ্যে নির্ধারণ হবে। আমরা এখনো সংঘটিত হতে পারিনি, আমরা বিশ্বাস জাগাতে পারছিনা এমএলএম আইনের পর এদেশে ভাল কিছু হবে, এবার সঠিক পথ আমরা খুঁজে পাব। নিজেদের গ্রহনযোগ্য করতে হবে অন্যের কাছে আর এজন্য অবশ্যই ভাল পথ বেছে নিতে হবে বিপরীতে এমএলএম ব্যবসা ছেড়ে অন্য পথ ধরতে হবে। যদি এদেশে একটি মাত্র সঠিক এমএলএম কোম্পানী থাকে তবে সেখানে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে কাজ করতে হবে সাফল্যের জন্য। আপনার প্রতিষ্ঠানের দূর্বল দিকগুলো ঢেকে রাখার চেষ্টা করবেন না বরং এর থেকে উত্তরণের জন্য কর্তৃপক্ষকে বলুন যদি কর্তৃপক্ষ আপনাকে অগ্রাহ্য করে তবে অন্য কোন কোম্পানীতে কাজ শুরু করুন। যদি মনে করেন আপনার দ্বারা নতুন কোন কোম্পানীতে কাজ করা সম্ভব নয় তবে অবশ্যই জেনে নিন আপনি এমএলএম করতে শিখেননি আপনি এতদিন কোম্পানীর সাইনবোর্ড বিক্রয় করেছেন। যে কোম্পানীর সাইনবোর্ড বিক্রয় করেছেন সে কোম্পানীটি কোন কারনে অপরাধী হয় তখন আপনার বলার কিছুই থাকবে না। নিজেকে এখনই সামর্থ্যবান করে তুলুন যাতে কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট নিজেকে দ্বায়বদ্ধ থাকতে না হয়। আপনার দৃষ্টিতে যদি আপনার প্রতিষ্ঠানটি সঠিক ও সেরা হয় তবে আমাদেরও আমন্ত্রণ করতে ভুলবেন না।

     

    [ আমার কোন লেখা কাউকে হেয় করা কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নয়, শুধু সাধারন পরিবেশকদের স্বার্থে লেখা। ]
  • মাল্টিলেভেল মার্কেটিং নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ … আমাদের নৈতিক বিজয়।

  • এম রহমান আরিফ

     


    আমরা নৈতিক বিজয় লাভ করেছি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের মাধ্যমে। আমি সর্বপ্রথম ধন্যবাদ জানাবো উক্ত আইনের জন্য যারা দ্বিধাহীন চিত্তে কাজ করেছেন তাদের, কারণ আমি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি তারা কিভাবে একাগ্রতার সাথে, আন্তরিকতার সাথে এই আইনের জন্য কাজ করেছেন। শুধু যে তারা দায়িত্ব পালন করেছেন তা নয় দেশের জন্য ও দেশের সাধারন মানুষকে এমএলএম প্রতারণা ও ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ দেয়ার জন্য অনেক কষ্ট সয়ে গিয়েছেন। আমি ও আমার সম্মানিত পাঠকগণ তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা স্মরণ করে দিচ্ছি সেইসব ঘৃণ্য ব্যক্তিত্বদের যারা এমএলএম আইন এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল যারা সাধারণ মানুষের রক্তচোষার জন্য নতুন নতুন বিজনেস প্লান তৈরী করে আসছিল, এদেশে এখনো অনেক ভালমানুষ আছেন যারা দেশের মঙ্গলার্থে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পিছপাঁ হননা। আবার এমন মানুষ আছে যারা প্রতারণার বিশাল জাল বিছিয়ে নিজেকে মহাগুরুত্বপূর্ণ মনে করে। মুখোশপরা ভদ্রলোকরা কখনো এদেশের আপামর জনসাধারনের মঙ্গল চায় না তারা শুধু তালমিলিয়ে চলতে চায়। আমরা আরো একধাপ এগিয়ে গেলাম আমাদের পূর্ণ বিজয়ের পথে। আমরা সামাজিক স্বীকৃতি পেয়ে নিজেকে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতে আর দ্বিধান্বিত হবনা। এ আইন আমাদের গন্ডিবেধেঁ দিবে এ আইন আমাদের চলার পথ দেখিয়ে দিবে। কিন্তু আমরা বিবেকের চোখ কখনো বেধেঁ রাখবো না, আমরা আইনের ফাঁক গলিয়ে মানুষের ক্ষতির কারণ হবনা। আমরা দেখিয়ে দিতে চাই মাল্টিলেভেল মার্কেটিং মানুষের জন্য, প্রতারকদের জন্য নয়। সবাইকে আবার অভিনন্দন আমাদের বিজয়ের জন্য।
  • নেটওয়ার্কাররা নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষনের জন্য একতাবদ্ধ হতে হবে।

  • এম রহমান আরিফ

     


    নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এখনই নেটওয়ার্কারদের একতাবদ্ধ হতে হবে যার কোন বিকল্প নেই। কোন প্রতিষ্ঠানের মালিক/পরিচালক, তাদের প্রতিনিধি কিংবা কোম্পানি দ্বারা নিযুক্ত কোন বিশেষজ্ঞ যদি নেটওয়ার্কারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করছে এমন বলা হয় তবে নিশ্চিত তা নিজেদের স্বার্থে অথবা লোক দেখানো প্রচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। পরের ধনে পোদ্দারি করা আর সাধারণ মানুষকে বলির পাঁঠা বানানোই আমাদের দেশের উদ্যোক্তাদের আসল চরিত্র। যাকে মহামানব ভাববেন তাকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে তার পক্ষে কথা বলা উচিত। সুন্দরভাবে কথা বলার মানুষের অভাব নেই এ সমাজে কিন্তু সুন্দর মনের মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না যারা দশজনের স্বার্থ নিয়ে ভাবে কথা বলে। আমাদের সমাজে দ্বিমূখী চরিত্রের মানুষের অভাব নেই যাদের মুখে এক আর অন্তরে আরেক।দুঃখজনক হলেও সত্য যে প্রতি দশজনের আটজন নেটওয়ার্কারকে মানুষ বিশ্বাস করে না। দিন চারেক আগের একটা ঘটনা বলি- নিউমার্কেট এলাকা থেকে বাসে চড়ে মিরপুর আসছিলাম, সন্ধার সময় বাসে বেশ ভিড় ছিল। কন্ডাক্টর একটু চেঁচিয়েই বললো-‘ভাড়াটা দয়া করে দিয়ে দেন, পরে দেয়ার কথা বলে তিনজন টাই-পরা ভদ্রলোক ভাড়া না দিয়ে নেমে গেল, ভদ্রলোক চেনা মুশকিল।’ তার কথার রেশ ধরে একজন বললো ‘এরা এমএলএম কোম্পানীর লোক, এদের কাছ থেকে আগে ভাড়া কাটবে’।কয়েকজন হাসল এ কথা শুনে।নিজেকে যখন নেটওয়ার্কার বলতে গর্ববোধ করি তখন এমন পরিবেশে এ ধরনের কথা শুনা মোটেও ভাল লাগছিল না। সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য আপনার পেশাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর আপনার পেশাটাই যখন চৌর্যবৃত্তির বলে পরিচিতি লাভ করবে তখন এ নিয়ে কথা বলারও সুযোগ থাকবে না। অভাবী দেশের মানুষ বলেই আমাদের কাছে অর্থলিপ্সা বেশি। চারপাশের আর দশজনের চেয়ে নিজের সম্পদের পাল্লা ভারী করার জন্যই সার্বক্ষনিক চিন্তা, নিজের অর্জনটুকু মহৎভাবে করার চিন্তা নেই। সম্মিলিত স্বার্থ সংরক্ষনের প্রচেষ্টা আমাদের কাছে নেই বিধায় আমরা আজ বিচ্ছিন্ন। একদিকে হারানো টাকার জন্য মালিক পক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ানো আর রাস্তায় নামলেই পুলিশের নিরবচ্ছিন্ন লাঠিচার্জ। এ মুহুর্তে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি দেশের নেটওয়ার্কাররা। অথচ ট্রেনিং এ স্যারেরা অনেক মজা করে শিখিয়েছে কিভাবে অর্থশালী হতে হয়! কিভাবে স্পন্সরিং করে টিম বিল্ড আপ করতে হয়। কিন্তু সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল নৈতিকতার বিচারে স্বীয় কোম্পানীর মূল্যায়ন। যেহেতু আমাদের দেশে এমএলএম কোম্পানীগুলো বিচার বিশ্লেষনের কোন মানদন্ড নেই সেহেতু তাদের ওপরেই দায়িত্ব ছিল মানুষকে সঠিক তথ্য সরবরাহ করা যারা কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে এ পেশায় নিজেকে জড়িয়েছে। গতানুগতিকভাবে যেভাবে ঘটে ঠিক সেভাবেই আজ ঝুলে গেল এমএলএম নীতিমালা আর শুনতে হচ্ছে গজমূর্খদের কাছ থেকে নানা কটাক্ষ। নেটওয়ার্কারদের একতাবদ্ধ হওয়ার সময় এখনই নতুবা আবার এমএলএম চলে যাবে উচ্চাকাঙ্খি মুনাফাভোগী ব্যবসায়ীদের হাতে।
  • এমএলএম বাংলাদেশঃ আমরা শুদ্ধতার অপেক্ষায়।

  • এম রহমান আরিফ

     

    পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে খুব সহজে নিষ্কৃতি পাইনি আমরা, বৃটিশ থেকে শুরু করে পাকিস্থানী শাসন অতপর স্বৈরাচারী শাসন। আমাদের কাছে স্বাধীনতা মানে অত্যাচারীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া, জুলুমবাজদের হাত থেকে বেঁচে থাকা। আমাদের জীবনের নিরাপত্তা, অর্থের নিরাপত্তা আজ অর্জিত হয় নাই। সুযোগসন্ধানী, জোচ্চোর, প্রতারক, সুদখোররা ওঁতপেতে থাকে সাধারন মানুষের রক্ত চুষে পান করার জন্য। বারবার এসব রক্তচোষাদের হাতে নিজেদের স্বর্বস্ব হারিয়েছে সাধারন মানুষ, তবুও আশায় বুক বেঁধে নামেন কিন্তু আবারও প্রতারিত হয় মানুষ। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং সম্পর্কে কম বেশি সবাই জানেন কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কি ও কিভাবে এটি অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় সফল ভুমিকা রাখে তা অনেকেরই জানা নেই। সেই শুরু (১৯৯৮-৯৯) থেকে অদ্যবধি শতশত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানীর জন্ম হয়েছে এবং এসবের বেশির ভাগই বন্ধ হয়ে গিয়েছে কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই সঠিক এমএলএম শর্ত পূরণ করে না। অবৈধ অর্থ আয়ের কৌশল হিসেবে এমএলএম পদ্ধতিকে বেছে নিয়েছে অনেকে আবার কেউবা ব্যবসার মূলধন সংগ্রহের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছে মাল্টিলেভেল বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি। প্রকৃতপক্ষে কোনটিই সম্ভব নয় যদি সঠিক আইন ও আইনের প্রয়োগ থাকে। এখানেই সমস্যা আমাদের, আমরা সর্বনাশ হওয়ার পর সমাধানের পথ খুঁজে বেড়াই। হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এতটাই অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে যে দেশের বেশির ভাগ মানুষ মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বলতে একটা প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে ধরে নিয়েছে। প্রতারণাটা মহামারী আকারে ধারণ করে যখন ইউনি-পে টু ইউ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইন জুয়ায় আসতে থাকে ইউনি গেটওয়ে, গোল্ডেন ট্রেড, রেভনেক্স, আর্থ ডিস্টিবউশন, স্পিক এশিয়া ইত্যাদি এরপর ডু-লেন্সার, স্কাই লেন্সার নামে ইন্টারনেট জালিয়াতি শুরু হয়। মোদ্দাকথা অন্যের পকেট থেকে টাকা বের করে আনার অন্যতম কৌশল হিসেবে এমএলএম সিস্টেমকে বেছে নেয় এরা। শুধু যে উদ্যোক্তাদের দোষ তা নয় বরং এক শ্রেণীর এমএলএম লিডার নামধারী ব্যক্তিবর্গ ঐসব প্রতারক কোম্পানীগুলোকে সহায়তা করে বিনিময়ে মোটা অংকের বোনাস ও ইনসেনটিভ পেয়ে থাকে। কোম্পানীগুলো কমিশন বাবদ যা ব্যয় করে তার ৭০ভাগ যায় ঐসব লিডারদের পেছনে। অর্থাৎ বিতর্কিত এমএলএম কোম্পানী মানেই শতভাগ লিডার নির্ভর। শতকরা আশি ভাগ এমএলএম কোম্পানীর মালিক এমএলএম এর সংজ্ঞা বলতে পারে কিনা সন্দেহ আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় তারা তাদের অজ্ঞতা স্বীকার করে না। শুধুমাত্র ব্যবসায়িক মানসিকতা নিয়ে এমএলএম পদ্ধতি অনুসরণ করে বিধায় অধিকাংশ কোম্পানী অংকুরেই বিনষ্ট হয়। দশ বছর পূর্বের আমার এক পরিচিত জন যার সাথে একই প্রতিষ্ঠানে আমরা এমএলএম ব্যবসা আরম্ভ করেছিলাম সে এখন নিজে কোম্পানী গঠন করেছে এবং ৩-৪ কোটি টাকা ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করেছে কিন্তু অগ্রগতি তেমন নেই। পণ্য নির্ভর অনেক মাল্টিলেভেল মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানই এখন প্রতিকূল পরিবেশে মোকাবেলা করছে কারণ বিনিয়োগভিত্তিক মাল্টিলেভেল নামধারী প্রতারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে প্রকৃত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ব্যবসা আজ হুমকীর সম্মুখীন। দেশে সুষ্ঠ এমএলএম বা ডিরেক্ট সেলস আইন প্রণয়ন অতীব জরুরী হলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে তা বারবার দীর্ঘসূত্রিতার জালে আবদ্ধ হচ্ছে। এ মুহুর্তে আমাদের প্রাণের দাবী ডিরেক্ট সেলস্ আইন প্রণয়ন ও মাল্টিলেভেল মার্কেটিং -কে রক্ষা করা। তবে সত্য উম্মোচন হতে শুরু করেছে এবং আমরা শুদ্ধতার পথে এগুচ্ছি। আমরা আমাদের নৈতিকতা দিয়ে বিশ্লেষণ করবো এবং সত্যের সাথে থাকবো , হোক তা আমাদের সাময়িক আর্থিক ক্ষতি।
  • এমএলএম এর এখন দুটি পক্ষঃ বুঝার দল আর না বুঝার দল।

  • এম রহমান আরিফ

     

    ‘দাদার হাতে কলম ছিল ছুড়েঁ মেরেছে, উহ্ বড্ড লেগেছে’ এই লাইনটি এখন আমার তিন বছরের ছেলের মুখেও মাঝে মাঝে শুনি। আমার সম্মানিত সাংবাদিক দাদাদের কলমের গুতা খেতে খেতে নেটওয়ার্কারদের মুখে মুখে এখন ‘দাদার(সাংবাদিক)হাতে কলম ছিল লিখে দিয়েছে, উহ্ বড্ড ক্ষেপেছে’। দীর্ঘ দিনপর আবার আজ লিখতে মনে হলো দাদাদের লেখা পড়ে(গতকালের), যেটুকু মনের ভেতর আছে তা পুরো লিখলে হয়তো প্রশান্তি লাভ করতাম কিন্তু তা ভেতর থেকে বের হয়ে আসে না। ভাল আর মন্দের তফাৎ যে জানেনা তার লেখার অধিকার নেই, যে মন্দকে ভাল হওয়ার সুযোগ দেয়না তার বলার অধিকার নেই। এদেশে এমএলএম বন্ধের আইন হচ্ছে না, হচ্ছে এমএলএম এর নাম দিয়ে জুয়াবাজি আর প্রতারণা বন্ধের আইন। অল্প দুঃখে মানুষ কাঁদে আর অতি দুঃখে মানুষ কাঁদতে পারেনা মনে হয় বুকটা চিঁড়ে প্রানটা বেরিয়ে যাবে।যারা এমএলএমকে ভালবাসে তাদের কান্না ভেতরেই থেকে যাচ্ছে আর যারা দু’নম্বর এমএলএম করে তারা গুনগুন করে কাঁদে কারণ তারা কামাইতে পারতো ১ কোটি কিন্তু কামাইছে ১০লাখ। ঝড়ের মতো তছনছ করে দিল আমার সব স্বপ্ন, এগার বছর ধরে লড়ছি এ এমএলএম এর জন্য। কখনো বুঝিয়ে কখনো শিখিয়ে কখনোবা লিখে। আমি দেখেছি সামান্য ক’টা টাকা কমিশন হিসেবে পেয়ে যেমন লাফ দিয়ে জড়িয়ে ধরে তা ভুলার নয়। আপনাকে উপলব্দি করতে হবে তাদের আনন্দ আর উল্লাস আর তাদের বেদনা। আমরা ভালকে যেমন উপলব্দি করতে চাইনা তেমনি খারাপকে ভালো হওয়ার সুযোগ দিইনা। এমএলএম মানে আরেকজনের গাছের কাঁঠাল চুরি করে এনে দলবদ্ধভাবে খাওয়া নয়, এমএলএম মানে নিজের কাঁঠাল সবাইকে নিয়ে খাওয়া, যেখানে খাওয়ার জন্যও ট্রেনিং নিতে হয়। যারা ইউনিপে, স্পীক এশিয়া, রেভনেক্স, ডুলেন্সার ও ডেসটিনিসহ আরো বেশ কিছু কোম্পানী করেছে তারা পুরো কাঁঠাল গাছটাকেই তুলে এনেছে যে গাছে আর কখনো ফল আসবে না। আমি এমএলএমকে দু’দলে ভাগ করেছিঃ বুঝার আর না বুঝার দল।

    ক. বুঝার দলে যারা আছেন-

    ১. যারা এমএলএমকে ভালবাসেন ২. যারা এমএলএম এর ভাল ও খারাপ যাচাই করতে পারেন ৩. যারা এখনো ভাল কোন এমএলএম প্রতিষ্ঠানের অপেক্ষমান ৪. যারা এখনো কিছুই শুনেনি, কিছুই জানে না।

    খ. না বুঝার দলে আছেন-

    ১. যারা এমএলএমকে ভালবাসে (শুধু টাকার জন্য) ২. যারা ভাল ও খারাপ যাচাই করে না ৩. যারা অনেকগুলো এমএলএম ফার্মের সদস্য ৪. যারা না বুঝে পত্রিকায় লিখে

     

    আমি আবারো দুঃখ প্রকাশ করছি, সমবেদনা প্রকাশ করছি তাদের জন্য যারা এমএলএম এর নাম দিয়ে ভূয়া কিছু প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হারিয়েছে। আমরা জানি একজন মানুষ কখনো আরেক মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে না একমাত্র মানুষরুপী শয়তানই তা পারে। আমি আবারো সেইসব লিডার ও নেটওয়ার্কারদের দোষারোপ করবো যারা জেনেও না জানার ভান করছে বুঝেও না বুঝার ভান করছে। যেখানে মানুষের সামান্যতম ক্ষতির সম্ভাবনা আছে সেপথে না গেলেই কি নয়। অর্থের জন্য দশজনের ভাগের কাঁঠাল একজনের হাতে তুলে দিলেই কি লিডারের দায়িত্ব পালন হয়ে যায়। মনে রাখবেন এসব ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের দ্বায়ভার কখনো রাষ্ট্র নিবে না কারন এটা শেয়ার বাজার নয় যেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব থেকে যায়। দু’নম্বর এমএলএম ব্যবসায় বাবার প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা এনে নামতা পড়তে পড়তে কোটিপতি হয়ে যাবার জের বাবার মৃত্যু। আসুন আমরা আরো ভাল বুঝে নিই, ভুল পথ থেকে মানুষকে দূরে রাখি, নিজের যা কিছু আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকি, পরের কল্যাণ কামনা করি, মানুষের মিষ্টি কথায় কান না দিয়ে আগে যাচাই করি, লোভ আর সুদ থেকে দূরে থাকি।
  • এমএলএম আইনঃ শুভ হোক শুরু, ভাল কিছুর অপেক্ষায়।

  • এম রহমান আরিফ

     

    ক’দিন আগে আমার প্রিয় একজন লিডারের সাথে দেখা যাকে বরাবরই সৎ হিসেবে জানি, চার-পাঁচটি এমএলএম নামধারী কোম্পানীতে বিনিয়োগ করে এখন শূন্যহাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রতিবার একেকটি কোম্পানীতে কাজ শুরু করতো আর ঐসব কোম্পানীর গুণকীর্তন করতো আর আমি প্রতিবারই সাবধানে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছিলাম। এখন সান্তনা ব্যতীত আর কোন কিছুই নেই আমার দেয়ার। প্রতারক চক্রের হাতে পড়ে গেল সর্বস্ব আর দোষ হলো এমএলএম ব্যবসার। এভাবে অসংখ্য নেটওয়ার্কার/লিডার যারা কিনা এ ব্যবসাকে আকঁড়ে ধরে বেচেঁ ছিলেন তারা এখন অভিমান করে এমএলএম ছেড়ে দিচ্ছেন। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর প্রকৃত শক্তি বা এর সামর্থ্য সম্পর্কে যারা জানেন না তারা প্রতারক চক্রের সাথে যাবেন না, কারণ এর দ্বারা মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে ও নিজের ইমেজ নষ্ট হবে। অন্যদিকে কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোক এবং পাশাপাশি কিছু সরল প্রকৃতির মানুষ না বুঝে প্রতারক চক্রের সাথে মিলিত হয়ে সর্বনাশ ঘটিয়েছে। সারাদেশে যদি ৫০ লক্ষ মানুষ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় জড়িত থাকে এর খুববেশি হলে ৫% মানুষ দুষ্ট প্রকৃতির যারা মালিকদের তোষামোদী করে চলে, অন্যদিকে ৯৫% মানুষ ভুক্তভোগী। ভুল করে যারা এমএলএম নামধারী প্রতারক চক্রের সাথে জড়িয়েছে তারা নিজেরা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি আরও কিছু মানুষের ক্ষতি করে এমএলএম এর বারোটা বাজিয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর এজন্যই ভাল মনের মানুষগুলোকে ফিরিয়ে আনতে হবে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর ভাল ও মন্দ দিকগুলো আমরা প্রত্যেক নেটওয়ার্কার, পরিবেশক ও নির্ভরশীল মানুষের কাছে বিস্তারিত আলোকপাত করবো কারণ এখনো ৯০% লোকই জানে না এমএলএম কি? যে ভুল সময় আমরা অতিক্রম করছি তা যাতে পূনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। একই পথে পূনরায় চললে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর অপার সম্ভাবনা ধুলিস্যাৎ হবে। এখনো যারা একগুয়েমি করে প্রতারক চক্রের সাথে মিলে কাজ করছে বা করার স্বপ্ন দেখছে তাদের ধিক্কার। ভাল মানুষরা যাতে পুনরায় ভুল না করে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে আমাদের সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি, ১৯৮৮-৮৯ এর দিকে মালয়শিয়ায় মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর বিপক্ষে এমনই ঝড় উঠেছিল কিন্তু এরপরই সঠিক আইন প্রণয়ন করে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েছে বর্তমান মালয়েশিয়া। যারা মনে করে বাংলাদেশের এমএলএম ব্যবসা শেষ তারা এ বিষয়ে অজ্ঞ, আর যারা মনে করে প্রতারণার সুযোগ এখনো রয়েছে তারা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। দেখা যাক কোনটির বিজয় হয়। আমরা এমএলএম এর বিজয় আনবোই, অপেক্ষা শুধু কিছু সময়ের। এজন্যই আমাদের ঐ ভাল মনের মানুষগুলোকে খুব প্রয়োজন যারা কখনো মানুষের অমঙ্গল চায় না। তাদের ফিরিয়ে আনতেই হবে। ধন্যবাদ।
  • ভাল মনের মানুষগুলোকে ফিরিয়ে আনুন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং-এ

  • এম রহমান আরিফ

     

    ক’দিন আগে আমার প্রিয় একজন লিডারের সাথে দেখা যাকে বরাবরই সৎ হিসেবে জানি, চার-পাঁচটি এমএলএম নামধারী কোম্পানীতে বিনিয়োগ করে এখন শূন্যহাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রতিবার একেকটি কোম্পানীতে কাজ শুরু করতো আর ঐসব কোম্পানীর গুণকীর্তন করতো আর আমি প্রতিবারই সাবধানে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছিলাম। এখন সান্তনা ব্যতীত আর কোন কিছুই নেই আমার দেয়ার। প্রতারক চক্রের হাতে পড়ে গেল সর্বস্ব আর দোষ হলো এমএলএম ব্যবসার। এভাবে অসংখ্য নেটওয়ার্কার/লিডার যারা কিনা এ ব্যবসাকে আকঁড়ে ধরে বেচেঁ ছিলেন তারা এখন অভিমান করে এমএলএম ছেড়ে দিচ্ছেন। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর প্রকৃত শক্তি বা এর সামর্থ্য সম্পর্কে যারা জানেন না তারা প্রতারক চক্রের সাথে যাবেন না, কারণ এর দ্বারা মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে ও নিজের ইমেজ নষ্ট হবে। অন্যদিকে কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোক এবং পাশাপাশি কিছু সরল প্রকৃতির মানুষ না বুঝে প্রতারক চক্রের সাথে মিলিত হয়ে সর্বনাশ ঘটিয়েছে। সারাদেশে যদি ৫০ লক্ষ মানুষ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় জড়িত থাকে এর খুববেশি হলে ৫% মানুষ দুষ্ট প্রকৃতির যারা মালিকদের তোষামোদী করে চলে, অন্যদিকে ৯৫% মানুষ ভুক্তভোগী। ভুল করে যারা এমএলএম নামধারী প্রতারক চক্রের সাথে জড়িয়েছে তারা নিজেরা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি আরও কিছু মানুষের ক্ষতি করে এমএলএম এর বারোটা বাজিয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর এজন্যই ভাল মনের মানুষগুলোকে ফিরিয়ে আনতে হবে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর ভাল ও মন্দ দিকগুলো আমরা প্রত্যেক নেটওয়ার্কার, পরিবেশক ও নির্ভরশীল মানুষের কাছে বিস্তারিত আলোকপাত করবো কারণ এখনো ৯০% লোকই জানে না এমএলএম কি? যে ভুল সময় আমরা অতিক্রম করছি তা যাতে পূনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। একই পথে পূনরায় চললে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর অপার সম্ভাবনা ধুলিস্যাৎ হবে। এখনো যারা একগুয়েমি করে প্রতারক চক্রের সাথে মিলে কাজ করছে বা করার স্বপ্ন দেখছে তাদের ধিক্কার। ভাল মানুষরা যাতে পুনরায় ভুল না করে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে আমাদের সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি, ১৯৮৮-৮৯ এর দিকে মালয়শিয়ায় মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর বিপক্ষে এমনই ঝড় উঠেছিল কিন্তু এরপরই সঠিক আইন প্রণয়ন করে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েছে বর্তমান মালয়েশিয়া। যারা মনে করে বাংলাদেশের এমএলএম ব্যবসা শেষ তারা এ বিষয়ে অজ্ঞ, আর যারা মনে করে প্রতারণার সুযোগ এখনো রয়েছে তারা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। দেখা যাক কোনটির বিজয় হয়। আমরা এমএলএম এর বিজয় আনবোই, অপেক্ষা শুধু কিছু সময়ের। এজন্যই আমাদের ঐ ভাল মনের মানুষগুলোকে খুব প্রয়োজন যারা কখনো মানুষের অমঙ্গল চায় না। তাদের ফিরিয়ে আনতেই হবে। ধন্যবাদ।